রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ । ২ কার্ত্তিক ১৪২৮
Dating App

অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন; যেভাবে বদলে দেবে এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক »

পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের মালিক হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সাথে এক নতুন নিরাপত্তা চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া কেন মনে করছে যে তার এই সাবমেরিন পেতেই হবে?

এখানে কি শুধুই অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ কাজ করেছে-নাকি এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রেরও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত হিসাব-নিকেশ কাজ করছে?

সেই হিসাব-নিকেশকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে শুধু চীনের চোখ-রাঙানিকেই তারা উপেক্ষা করছে তা নয়, তাদের নেটো মিত্র ফ্রান্সকেও ক্ষেপিয়ে তুলতে দ্বিধা করেনি।
চুপিসারে এবং অত্যন্ত গোপনে এ চুক্তির আলোচনাগুলো করা হয়-আর তা ঘোষণার ঠিক আগে একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রান্সকে স্তম্ভিত করে অস্ট্রেলিয়া জানিয়ে দেয়-তারা ফ্রান্সের কাছ থেকে ১২টি ডিজেলচালিত সাবমেরিন কেনার জন্য করা চার হাজার কোটি ডলারের চুক্তিটি বাতিল করছে।

আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপ আর এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে বলছেন, এক মোড়-বদলকারী ঘটনা, যা পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত হিসাব-নিকেশ পাল্টে দেবে।

‌‘চুক্তিভঙ্গ’,‘পিঠে ছুরিকাঘাত’, ‘বেইমানি’- এরকম কথা শুনতে হয় হোক, পারমাণবিক সাবমেরিন আমাদের লাগবেই’ – অস্ট্রেলিয়ার ভাবখানা ছিল এই রকমই। কেন?

পারমাণবিক সাবমেরিন শক্তিধর দেশগুলোর জন্য কেন এত জরুরি?

পৃথিবীতে এখন মাত্র ছয়টি দেশের হাতে পারমাণবিক সাবমেরিন আছে। এরা হলো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভারত।

এর সুবিধাটা কী? সহজ কথায়, পরমাণু-শক্তিচালিত সাবমেরিন শত্রুপক্ষের চোখ এড়িয়ে গভীর সমুদ্রের নিচে ডুবে থাকতে এবং দ্রুত চলাচল করতে পারে-আর তার উপস্থিতি চিহ্নিত করাও অনেক কঠিন।

সাধারণ সাবমেরিনের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে-এগুলো হয় ডিজেল বা বৈদ্যুতিক শক্তিচালিত। ডিজেল ইঞ্জিনে জ্বালানি পোড়ানোর জন্য বাতাস দরকার, আর ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের জন্য ঘন ঘন রিচার্জ করা দরকার।

এ কারণে সবচেয়ে উন্নত ধরনের ‘কনভেনশনাল’ সাবমেরিনও এক নাগাড়ে কয়েক দিনের বেশি পানির নিচে ডুবে থাকতে পারে না। তাদের জ্বালানির জন্য পানির ওপর ভেসে উঠতে হয় বা বাতাস নেবার নলটিকে পানির ওপরে ভাসিয়ে রাখতে হয়। ফলে তা শত্রুপক্ষের চোখে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

অন্যদিকে, এখন যেসব পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি হচ্ছে-সেগুলো কোনো রিফুয়েলিং ছাড়াই মাসের পর মাস পানির নিচে থাকতে পারে। এগুলো অনেক বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে এবং তা অনেক বেশি দূর পর্যন্ত নিক্ষেপ করতে পারে।

সুতরাং পরমাণু-শক্তিচালিত সাবমেরিনের মালিক হবার পর অস্ট্রেলিয়ান সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। তারা অস্ট্রেলিয়ার আশপাশে প্রশান্ত মহাসাগরের বহুদূর পর্যন্ত এলাকায় গোপন নজরদারি ও টহল দিতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়া মনে করছে, এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব ও হুমকি এতটাই বেড়ে গেছে যে তা মোকাবিলা করতে হলে ঠিক এই জিনিসটাই তাদের দরকার, ডিজেলচালিত সাবমেরিনে তাদের চলবে না।

এই সাবমেরিনে কী অস্ত্র থাকবে?

অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক অস্ত্রমুক্তকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর দানকারী একটি দেশ। তাই তাদের পক্ষে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া বা তা মোতায়েন করা নিষিদ্ধ। সে কারণে বাইডেন এবং মরিসন উভয়েই বলেছেন যে অস্ট্রেলিয়া এই সাবমেরিনে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করা হবে না।

তাই মনে করা হচ্ছে, খুব সম্ভবত এই পারমাণবিক সাবমেরিনে প্রচলিত, সাবমেরিন-থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ মিসাইল থাকবে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন-তাই এতে যদি শুধু প্রচলিত অস্ত্রই থাকে এবং এতে কোন বিদেশী ক্রু না-ও থাকে-তার পরও এটা প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নৌ-শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারবে।

এগুলো তৈরি হবে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এডিলেইডে এবং এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য প্রযুক্তি ও পরামর্শ দেবে। কমপক্ষে আটটি সাবমেরিন তৈরি হবে, তবে এগুলো কোথায় মোতায়েন হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শেয়ার করুন »

আন্তর্জাতিক ডেস্ক »

মন্তব্য করুন »