আওয়ামী লীগেরই পাঁচ মেয়র প্রার্থী

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বেজে উঠেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনের ডামাডোল। আগামী ৯ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এমন খবরে নগরীর সর্বত্রই বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা অনলাইন-অফলাইনে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিতে শুরু করেছেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই তৎপর ছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কিন্তু সেই তৎপরতা চাপা পড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে। তবে গত সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পর মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশীরা সরব হয়েছেন। সিটি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনি আমেজ।

এবারের সিটি নির্বাচনে প্রার্থী উন্মুক্ত থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বেশ উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়রের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত আরও চার নেতা ভোটে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর এই প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা এখন পথে-প্রান্তরে। সেই সঙ্গে চলছে নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ। আছে ভোটারদেরও নানান প্রত্যাশা।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র হয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু। তবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তার। সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সৃষ্ট বিভেদকে কাজে লাগিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার আশায় আছেন একাধিক প্রার্থী।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোহিত উর রহমান শান্তর বিপরীতে নির্বাচন করেছেন সিটি মেয়রের বড় ভাই আমিনুল হক শামীম। এতে ফের দুই পরিবারের বিভেদ প্রকাশ্যে আসে। সৃষ্ট এই বিভেদকে কাজে লাগিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর সমর্থন নিয়ে মেয়র টিটুর প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার আশায় আছেন একাধিক দলীয় প্রার্থী। সেই তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এহতেশামূল আলম, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদেক খান মিল্কি টজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম ফেরদৌস জিলু এবং সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট ফারামার্জ আল নূর রাজীব। এদিকে মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসন দিয়ে সেখানে স্বতন্ত্রপ্রার্থী দ্বারা কোণঠাসা করা হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না জাতীয় পার্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights