বঙ্গোপসাগর থেকে ভাসমান শকুন উদ্ধার

বরগুনা প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ভাসমান অবস্থায় অসুস্থ একটি শকুন উদ্ধার করেছে জেলেরা। গত ৩০ জানুয়ারি জেলেরা বঙ্গোপসাগরে ভাসমান শকুনটিকে উদ্ধার করে ট্রলারেই রেখে খাবার খাইয়ে সুস্থ রাখেন।

মঙ্গলবার সকালে শকুনটিকে ট্রলারের মাঝি দেলোয়ার হোসেন পাথরঘাটা বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলে অপেক্ষা করছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে একটি শকুন সাগরে পানির উপরে ভাসতে দেখি। প্রথমে ভাবছিলাম এমনিতেই শকুনটি ভাসছে। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় দেখে ট্রলার চালিয়ে পাশে গিয়ে উদ্ধার করি। শরীরে কোনো আঘাত না থাকলেও শারীরিকভাবে দুর্বল মনে হওয়ায় ট্রলারে রেখেই খাবার খাইয়ে রেখেছি। মঙ্গলবার ট্রলার নিয়ে পাথরঘাটা এসে বনবিভাগের কাছে শকুনটি হস্তান্তর করা হয়।
হরিণঘাটা বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা আবদুল হাই বলেন, জেলেরা একটি শকুন আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা জানায়, শকুনটি অসুস্থ অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরীক্ষা করে সুস্থ থাকলে বনে অবমুক্ত করা হবে। একটা সময় সুন্দরবন সংলগ্ন পাথরঘাটার উপকূলেও দেখা মিলত শকুন। গত কয়েক বছর ধরে একেবারেই শূন্যের কোটায়।

পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, অতিমাত্রায় কৃষিতে কীটনাশক, পোকামাকড় জাতীয় জীবজন্তু মারার জন্য বিষ মিশ্রিত খাবার প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় শকুন বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। এছাড়াও মানুষের অত্যাচার তো আছেই। জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সুন্দর পরিবেশ এবং বন সংরক্ষণ দরকার। এ জন্য স্থানীয় সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃৃক্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা বাড়ানো দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights