হাত-পা-মুখ বেঁধে শিশুটিকে হত্যা করে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা!

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর পরশুরামের হাত মুখ পা বাঁধা অবস্থায় উম্মে সালমা লামিয়া (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পরশুরামের পৌর এলাকার পশ্চিম বাঁশপদুয়ায় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লামিয়া নুরুন্নবীর মেয়ে।

জানা যায়, মাথায় হেলমেট পড়া দুই যুবক লামিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় তার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা (১২) পালিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। বর্তমানে নিহতের বড় বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তারা দুই বোন স্থানীয় একটি নূরানী মাদরাসায় পড়ালেখা করে। তবে ঘটনার সময় নুরুন্নবী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ফেনী শহরে ছিলেন।

এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে হেলমেট পড়া দুই যুবক নুরুন্নবীর ভাড়া বাসায় এসে নিজেদেরকে পল্লী বিদ্যুতের লোক দাবি করে দরজা খুলতে বলে। ওই সময় শিশুরা দরজা খুলে দিলে দুই যুবক ঘরের ভিতরে ঢুকে লামিয়াকে টেপ দিয়ে হাত মুখ পা বেঁধে হত্যা করে। এ সময় লামিয়ার বড় বোন ফাতেমা আক্তার নিহা পালিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি ঘরে আশ্রয় নেয়।
আরো জানা যায়, নুরুন্নবী পরশুরামের পৌরএলাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরে বাঁশপদুয়ার পশ্চিম পাড়া এয়ার আহাম্মদের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানাকে নিয়ে থাকতেন।

নুরুন্নবীর সাবেক স্ত্রী আয়েশা আক্তার অভিযোগ করেন, নুরুন্নবীর দ্বিতীয় স্ত্রীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার সন্তান লামিয়াকে হত্যা করেছে। আয়েশা আক্তার এ ঘটনায় নুরুন্নবীর দ্বিতীয় স্ত্রীকে দোষারোপ করেন।

পরশুরাম থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights