বালুচরে ফসল আবাদে ব্যস্ত কৃষক

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

পাটগ্রামে তিস্তা ও ধরলা নদীর বালুচরে এবার বেশি পলি পড়েছে। এ কারণে ফসল ভালো হওয়ায় চাষাবাদে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। বিস্তৃত চরাঞ্চল ভরে গেছে ভুট্টা, গম ও আলুর মতো নানা ফসলে। কৃষকরা এখন খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা এবং পাটগ্রাম পৌরসভা, জগৎবেড় ও জোংড়া ইউনিয়নের ধরলার চরে প্রায় ১৩০ হেক্টর জমি চাষের আওতায় এসেছে, যা অন্য বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এসব চরে এবার দেড় হাজার টনের বেশি ফসল উৎপাদন হবে। যা বাজারমূল্য পাওয়া যাবে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।

সরেজমিন দেখা গেছে, চরে আবার হয়েছে ভুট্টা, গম, বাদাম, আলু, মরিচ, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, সরিষাসহ বিভিন্ন শাকসবজি। ফসলের খেতে কৃষক পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও কৃষিশ্রমিকরা কাজ করছেন। কেউ ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে খেতে পানি দিচ্ছেন, কেউ খেতে নিড়ানি দিচ্ছেন, আবার কেউ আগাছা তুলছেন সন্ধ্যা পর্যন্ত। তারা খেতের পরিচর্যা করতে সকালে মাঠে যান, সঙ্গে নিয়ে যান খাবার ও পানি। দুপুরে খেতের আইলেই খেয়ে আবার কাজে ফেরেন।
কৃষকরা জানান, আন্তসীমান্ত নদী তিস্তা ও ধরলার পানিপ্রবাহ নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে উজানের দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৪ অক্টোবর ছেড়ে দেওয়া তিস্তার পানিতে দহগ্রামে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। এতে ভেসে আসা পলি জমা হয় বালুচরে। এই পলির পরিমাণ ছিল এবার অনেক বেশি। তাই চরের দাবিদার স্থানীয় গ্রামবাসী এ বছর অনেক বেশি ফসল আবাদ করছেন।

দহগ্রামের চরের কৃষক ফরহাদ মন্ডল বলেন, ‘তিস্তা নদী যখন ভাঙে, তখন চরে ধুধু বালু পড়ে। চরে আমরা ফসল আবাদ করি। এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে। আমরা খুব খুশি।’ একই এলাকার কৃষক আবু সাঈদ বলেন, ‘তিস্তা নদী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙছে। এবারে পলি বেশি পড়েছে। সবাই বিভিন্ন ফসল আবাদ করেছেন, খেতও ভালো আছে। ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল গাফফার বলেন, ‘এবার নদীর চরগুলোতে পলিমাটি বেশি পড়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা সবাই চাষাবাদ করছেন। ফলনও ভালো হবে। আমরা অনুমান করছি, এসব চরে উৎপাদিত ফসলের মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights