বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন এবং পুনর্মিলনী করতে সাবেক শিক্ষার্থীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি দুটি কমিটি গঠন করে শতবর্ষপূর্তি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে দুই পক্ষই। এ নিয়ে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা।

শতবর্ষ উদযাপন করতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সাধারণ সভায় প্রফেসর শাহ্ সাজেদাকে আহ্বায়ক ও তানিয়া আনজুমান্দ ববিকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠিত হয়। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে শতবর্ষ উদযাপন করার লক্ষ্যে দুই মাসব্যাপী অনলাইন ও অফলাইনে সাবেক শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন শুরু হয়। ২ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে প্রায় ২ হাজার সাবেক শিক্ষার্থীকে নিবন্ধনভূক্ত করেন তারা। এরপর ম্যাগাজিনের জন্য তারা লেখা আহবান করে।

এদিকে শতবর্ষ উদযাপন কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে গত ২৮ জানুয়ারী নগরীর বগুড়া রোডের একটি বাসায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক সভায় বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা জলিকে আহ্বায়ক ও বেগম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক সানজিদা শাহনেওয়াজ লিজাকে সদস্য সচিব করে ১০৪ সদস্যের একটি পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়। আগের কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর শাহ্ সাজেদাকে নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা বলেন, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আমরা কোন বিভেদ চাই না। সকলে মিলেমিশে একটি সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দিতে চাই।
এই কমিটির সদস্য সচিব সানজিদা শাহনেওয়াজ লিজা বলেন, শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ও ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। পূর্বের কমিটির অসঙ্গতি নিয়ে বেশ কয়েকবার আহবায়কে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা সংশোধনের উদ্যোগ না নেয়ায় সিনিয়র প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সভা করেছি। আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে শতবর্ষ উদযাপন করতে চাই।

এদিকে গত বুধবার রাতে প্রথম কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর শাহ সাজেদা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমাদের নিবন্ধন শেষ হবার পর কিছু কুচক্রি মহল বিভিন্ন স্থানে ভ্রান্ত ধারনা, কুৎসা ও মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী প্রচার করে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সবার মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন আয়োজন করার কথা বলেন তিনি।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা হোসেন বলেন, শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজন। এতে বিদ্যালয় যুক্ত নয়। দুটি উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে শুনেছি। তারা চাইলে ভেন্যু হিসেবে বিদ্যালয় ব্যবহার করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights