সৌরবিদ্যুৎ বনাম ভূমি জটিলতা

মেজর আখতার (অব.)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির (IRENA) দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশেও টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ভূমির ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বেশ বিভ্রাট সৃষ্টি হচ্ছে যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। নবায়নযোগ্য উৎসের মধ্যে সৌরশক্তি একটি অন্যতম উৎস। সৌরশক্তি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সাহায্য করে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করে এবং দেশের জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার প্রচেষ্টা সমর্থন করে। তাই সৌর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বহুবিধ সুবিধা অর্জন করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তির উৎসের পরিধি বৃদ্ধি, পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং একটি টেকসই শক্তি ভবিষ্যৎ। সৌর অবকাঠামো, সহায়ক নীতি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ক্রমাগত বিনিয়োগ বাংলাদেশে সৌরশক্তির সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে অবদান রাখার জন্য কিছু মূল শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যা পূরণে সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যেমন (১) সরকারি সহায়তা : বাংলাদেশ সরকার অন-গ্রিড সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য শক্তির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। এটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত বৃহৎ আকারের সৌর প্রকল্পগুলোর বিকাশ উৎসাহিত করার জন্য নীতি, প্রণোদনা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো বাস্তবায়ন করেছে। (২) অনুকূল সৌরসম্পদ : বাংলাদেশ সারা বছর প্রচুর পরিমাণে সূর্যালোক পায়, এটি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। দেশের অনুকূল সৌর বিকিরণ মাত্রা সৌরশক্তি ব্যবহার এবং গ্রিডে সংযোজনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। (৩) ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা : জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্বারা চালিত বাংলাদেশের শক্তির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বিদ্যুৎ যোগ করে এ ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কতগুলো বাস্তব সমস্যার কারণে সৌরবিদ্যুতের উন্নয়ন কাক্সিক্ষত গতিতে অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হলো ভূমি ও কারিগরি দক্ষতার অভাব। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশে প্রচুর ভূমি রয়েছে যেখানে খুব সহজেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু ভূমির প্রয়োজনের ব্যাপারে সরকারের কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্যনির্ভর নীতিমালা না থাকার কারণে এখানে যে যার সুবিধা মতো তথ্য বিতরণ করে যাচ্ছেন। এখানে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, কনসালট্যান্স এমনকি বুয়েটসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরাও কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক তথ্য দিতে পারছেন না। তিন একর ভূমি লাগবে। এটি নাকি ‘থাম রুল’। যেখানে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করতে কয়েক কোটি টাকা লাগে সেখানে তার অন্যতম এবং অতি আবশ্যক উপাদান ভূমি কতটুকু লাগবে তার কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক ভিত্তি থাকবে না এরকম ভাবনা কতটুকু স্বাভাবিক! এ ভূমির কারণে অনেক উদ্যোক্তা আর্থ ও কারিগরি দক্ষতা এবং সক্ষমতা থাকার পরেও বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ভবনের ছাদের ক্যান্টিনে খেতে ও খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকের ধারণা ভূমি নির্ধারণের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়াই সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নের অন্তরায়ের অন্যতম কারণ। নিচে ভূমি নিয়ে যেসব তেলেসমাতি হচ্ছে তা বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের সদয় জ্ঞাতার্থে বিনয়ের সঙ্গে নিজ দায়িত্বে উপস্থাপন করলাম। আমি এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বোর্ডের ওপর থেকে নিচের সংশ্লিøষ্ট সব কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, বুয়েট ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন কনসালট্যান্স ও বাংলাদেশে কাজ করছে এরকম চীন, ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই ভূমির ব্যাপারে ফিসি ফিসি। কারোরই কোনো সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। সবাই ‘থাম রুল’-এর কথা বলে। কিন্তু তথাকথিত থাম রুলটির ভিত্তি কী, এর বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক যৌক্তিকতা কতটুকু তার কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য কারও কাছ থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কেন জানি কোনো গোপন বা অস্পষ্ট কারণে সবার মধ্যে এই থাম রুল-এর ব্যাপারে এক ধরনের ঐক্যমত্য বিরাজ করত। যা অনেকের মতে জনস্বার্থে সুস্পষ্টকরণ করা দরকার। নিচে এ তথাকথিত ‘থাম রুল’-এর একটি বিশ্লেষণ দেওয়া হলো : সবাই বলছেন এ থাম রুলটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে শুরু করা থেকেই ব্যবহার করে আসা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমাদেরও কোনো দ্বিমত নেই। কারণ বাণিজ্যিকভাবে ১৯৮০ সাল থেকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিশ্বব্যাপী নির্মাণ করা শুরু হয়েছে। তখন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের দক্ষতা ছিল ১০-১৪%। অর্থাৎ সূর্যরশ্মি (ইরাডিয়েন্স) থেকে এ পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ছিল। ফলে তখন ৩.১০ বর্গমিটারবিশিষ্ট প্রচলিত একটি সৌর প্যানেল থেকে সর্বোচ্চ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ১০০-১২৫ ওয়াট পি। তার মানে ১৯৮০ সালে এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১০০ ওয়াটের প্যানেল ব্যবহার করতে হতো ১০ হাজারটি এবং এর জন্য শুধু প্যানেল বসাতেই জায়গা লাগত সাত একরের বেশি। পরবর্তিতে ২০১০ সালের দিকে ১০০ ওয়াটের প্যানেলের জায়গায় ৩০০-৩৫০ ওয়াটের প্যানেল বাজারে আসে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয়। সম্ভবত তখন থেকে এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এ অতি প্রিয় তিন একর ভূমি ব্যবহারের থাম রুলটি প্রচলিত হতে শুরু করে। গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপ্লব হয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থকে। এখন বাই-ফেশিয়াল থিন ক্রিস্টালাইন এন টাইপ এইচজেটি প্রযুক্তির সৌর প্যানেল বা মডিউল বাজারে চলে এসেছে যা হট কেকের মতো খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এখন একটি সৌর প্যানেলের দক্ষতা ২৩.১৭% অতিক্রম করেছে। পূর্বেকার ৩.১০৬ বর্গমিটার একটি এন-টাইপ-এইচজেটি ৭২০ ওয়াট মডেল বাই-ফেশিয়াল প্যানেল পুকুর বা পানির উপরে ৮২০ ওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এখন এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এন-টাইপ- এইচজেটি ৭২০ ওয়াট মডেল বাই-ফেশিয়াল প্যানেল লাগবে ১ হাজার ২২০টি। ১৯৮০ সালে ১০ হাজারটি প্যানেলের জন্য ভূমি লাগত ৩১ হাজার বর্গমিটার বা সাত একরের বেশি। পরে ২০১০ সালের পরে বাজারে ২০% দক্ষতার প্যানেল আসে যার উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০-৩৫০ ওয়াটে উন্নীত হয়। বাংলাদশে ইতিপূর্বে স্থাপিত প্রায় সব প্যানেলের আউটপুট এরকম। এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ৩০০ ওয়াট পি-এর প্যানেল লাগে প্রায় ৩ হাজার ৩৩৪টির মতো, যার জন্য শুধু প্যানেল বসাতেই ভূমির প্রয়োজন ছিল ১০ হাজার ৩৫৪ বর্গমিটার এবং অন্যান্য প্রয়োজনসহ মোট ভূমি লাগত ৩.২২ একর। কাজেই পাওয়া গেল তথাকথিত ‘থাম রুল’-এর উৎস! কিন্তু এখন ২০২৪ সালে এসে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্যানেল লাগবে ১ হাজার ২২০টি এবং যার জন্য জায়গা লাগবে ৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার। তার মানে আধুনিক প্রযুক্তিতে এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্যানেল বসাতে জায়গা লাগবে মাত্র ০.৯৪ একর। যদি ইনভার্টার লসের জন্য আরও ৫% প্যানেল বেশি রাখা হয় তাহলে মোট জায়গা লাগবে ০.৯৮ একর। ছায়া থেকে মুক্তি ও অন্যান্য ব্যবহারের জন্য যদি ২০% ভাগ অতিরিক্ত ভূমি রাখা হয় তাহলে সর্বমোট প্রতি মেগাওয়াটের জন্য সর্বোচ্চ ভূমি লাগবে ১.১৮ একর। ভূমির এ হিসাবটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও গাণিতিক বাস্তবতা সম্মত। এ ব্যাপারে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাযোগ্য। এখানে আরও উল্লেখযোগ্য বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে ইরাডিয়েন্স বা বিকিরণ না হলেও সূর্যের অ্যালবেডো বা ডিফিউজট আলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। এ সত্যতা ও বাস্তবতা এবং পরীক্ষিত প্রয়োগের ওপর আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির ২০২১ সালের একটি প্রতিবেদন আছে, যার সূত্র হলো- আই ই এ-পিভিপিএস-টি ১৩-১৪:২০২১। কারও কাছে এর চেয়ে বেশি তথ্য থাকলে দয়া করে প্রতিবেদনটি ইন্টারনেট থেকে দেখে নিতে পারেন। কারণ জ্ঞানের উৎস এখন আর কারও কুক্ষিগত নয়! তবে এ তিন একর থাম রুলে সুবিধা নিচ্ছে পুরনো প্রযুক্তির কম আউটপুটসম্পন্ন প্যানেল, যার বাজারজাত করছে সেসব ব্যবসায়ীরা। কারণ তারা পুরনো প্যানেল ব্যবহার করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তারা সম্মিলিতভাবে চাচ্ছে না বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তির প্যানেল প্রবেশ করুক। এটিও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ও কলকারখানার যন্ত্রপাতি দিয়ে বাজার সয়লাব করার মতো একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র।

পৃথিবীর অনেক দেশের অনেক জমি আছে কিন্তু পর্যাপ্ত সূর্যের আলো বা বিকিরণ নেই। তাই তারা বেশি বেশি জমি ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না। আমাদের প্রচুর সূর্যের আলো বা বিকিরণ আছে কিন্তু তেমন উপযোগী জায়গা নেই। ফলে আমাদের কম জমিতে যত বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের অনেক জলাভূমি আছে যেখানে খুবই যুৎসই প্রযক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক হারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের প্রচুর উচ্চশিক্ষিত মেধাবী প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ আছেন, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক ও লাগসই সিদ্ধান্ত নিতে তারা খুবই লাজুক। সবসময় এক ধরনের হীনমন্যতা এবং জটিলতায় ভোগেন এবং উপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ব্যক্তিস্বার্থ না থাকলে স্বিদ্ধান্ত নিতে এড়িয়ে যান বা অহেতুক কালক্ষেপণ করেন। হ্যাঁ বলাতে হলে লোভ বা ভয় দেখাতে হয়। ‘হ্যা’-এর পক্ষে ১০টি যুক্তি থাকলেও তা মানতে চায় না, আবার ‘না’-এর পক্ষে একটি যুক্তি থাকলেই চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয় না।

আমাদের একটি জটিল সমস্যা হলো- যা জানি না তা মানতে রাজি না। তাই এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে দেশের জনগণের স্বার্থে ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যথোপযুক্ত গতি আনার জন্য বর্তমান প্রযুক্তি ও বাজারে প্রচলিত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ইনভার্টার, ট্রান্সফরমার ও আনুষঙ্গিক ইকুইপমেন্টের উৎপাদনকারীদের ঘোষিত ও প্রত্যায়িত সনদের ভিত্তিতে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কি পরিমাণ জমি লাগে বা লাগবে তা জরুরি ভিত্তিতে নির্ধারণ করা জাতীয় স্বার্থে অতীব প্রয়োজন। তাই বোদ্ধাজনদের প্রস্তাব হলো তিন সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি করে দেওয়া হোক। তবে শর্ত থাকবে যে, এ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা কোনো অবস্থাতেই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত থাকবেন না। এ কমিটি ৩-৫ মাসের সার্বক্ষণিক মেয়াদের হবে। তিন সদস্যের মধ্যে একজন তড়িৎ/ সৌর, একজন সিভিল ও একজন আর্কিটেক্ট হতে হবে। এ কমিটি ভারত, চীন, জাপান ও কোরিয়ার অন্তত তিনটি করে সর্বোচ্চ ১৫টি সৌর প্যানেল ও দুটি করে সর্বোচ্চ ১০টি ইনভার্টার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের চলমান উৎপাদন লাইন সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই বিদ্যমান বা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এমন কোনো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবেন না। কারণ তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি সর্বশেষ না-ও হতে পারে। যার ফলে তথ্যবিভ্রাটের সমস্যা হতে পারে। এ কমিটির কোনো সভাপতি থাকবে না এবং সবাই যুগ্মসচিব বা প্রধান/উপপ্রধান প্রকৌশলী পদমর্যাদার হবেন। তার মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠজন প্রশাসনিক ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি সদস্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করে একই দিনে ও সময়ে সরাসরি বিদ্যুৎ সচিব বরাবর দাখিল করবেন, যিনি তা গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক প্রকাশ করে তার ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড় নির্ধারণ করে তৎপরবর্তী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নির্দেশনা তৈরি করে দেবেন। এ কাজটি করে দিতে পারলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে এবং বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বাত্মক দৃষ্টি কাম্য।
লেখক : স্বতন্ত্র চিন্তাদর্শী ও কর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights