গৃহকর্মীর মৃত্যু : স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক চার দিনের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক

গৃহকর্মীর ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র মামলায় ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে চার দিন রিমান্ড নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ ঢাকা মহানগর হাকিম সাইফুর রহমান রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

এর আগে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদন বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। পরে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আসামিদ্বয় আলাদা আলাদা কারাগারে থাকায় ঘটনার বিষয়ে তাদেরকে একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে তারা ঘটনা সংক্রান্তে অনেক রহস্যজনক তথ্য দিয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে ঘটনার মূল রহস্য কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। এ মামলার ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা থাকলেও কোন মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কৌশলে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ধারনা করা যাচ্ছে, ক্যামেরায় ঘটনার ভিডিও থাকার ফলে আসামিদ্বয় ঘটনার পরপরই সেখান থেকে মামলার আলামত নষ্ট বা গোপন করার জন্য মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখতে পারে। এমতাবস্থায় আসামিদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে মেমোরি কার্ড উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা এ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহকর্মী প্রীতি উড়ানকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান বাসার কেয়ারটেকার। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এই ঘটনায় নিহত প্রীতি উড়ানের বাবা লুকেশ ওড়ান বাদী হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে দণ্ডবিধি আইনের ৩০৪(ক) ধরায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ মামলায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আটককৃত ব্যক্তিরা (আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকার) অবহেলাজনিতভাবে বাসার জানালায় নিরাপত্তা বেস্টনী না দিয়ে অরক্ষিত অবস্থায় রাখার কারণে ওই জানালার ফাঁক দিয়ে আমার মেয়ে প্রীতি উড়ান পড়ে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। ‘আমি ও আমার স্ত্রী খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি যে, আমার মেয়ে প্রীতি উড়ান সকাল ৮টার দিকে বাসায় কাজ করার সময় ড্রয়িং স্পেসের জানালায় কোনও নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় থাই গ্লাসের ফাঁকা দিয়ে নিচে পার্কিংয়ের ছাদের ওপর পরে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মারা গিয়েছে।

গৃহ পরিচারিকার কাজ করা অবস্থায় গত বছরের ৪ আগস্ট ফেরদৌসি নামে আরেক গৃহকর্মী একইভাবে জানালার নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় থাই গ্লাসের ফাঁকা দিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হলে বাসার মালিকের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়। আমরা বুঝতে পারি যে বাসার লোকজনসহ বাসার মালিকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে বাসার জানালার নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights