চট্টগ্রামে হকার-পুলিশ সংঘর্ষ : ১২০০ জনের বিরুদ্ধে চসিকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট থেকে ফলমন্ডি পর্যন্ত পুনর্দখল ঠেকাতে এবং অবৈধভাবে রাস্তা-ফুটপাত দখলকারীদের উচ্ছেদ পরবর্তী মনিটরিং কার্যক্রমের সময় পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মঙ্গলবার নগরের কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দপ্তরের পেশকার মো. আবু জাফর চৌধুরী।

মামলার আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম (৪৫), মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতির সভাপতি মিরন হোসেন মিলন (৫২), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ভূঁইয়া (৪৭), চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সভাপতি নুরুল আলম লেদু (৫৯), সাধারণ সম্পাদক জসিম মিয়া (৫০), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হকার্স সমিতি সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শাহীন আহমদ (৪৬), সদস্য নূর মোহাম্মদ (৪৫), চট্টগ্রাম হকার্স লীগের সাবেক সভাপতি ঋষি বিশ্বাস (৫৩), সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ রনি (৪৮), চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক তারেক হায়দার (৩৮) এবং সোহেলসহ (৩৫) অজ্ঞাত ১২০০ জন আসামি। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন ২০১৯ এর ৪/৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ওবায়েদুল হক বলেন, গত সোমবার চসিকের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চসিক নগরের আমতল থেকে ফলমন্ডি পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক হাজার স্থাপনা উচ্ছেদ করে। গত সোমবার বিকালে চসিকের পক্ষ থেকে উচ্ছেদকৃত স্থান ফের দখল ঠেকাতে তদারকিতে যান চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা, শাহরিন ফেরদৌসী, মো. সাব্বির রহমান সানি এবং রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

এ সময় একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ পুলিশ ও চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের চারজন কর্মী আহত হন। অভিযানে ব্যবহৃত ২টি ডাম্প ট্রাক, ১টি পিকআপ ও চসিকের বিদ্যুৎ উপ-বিভাগের এরিয়াল লিফট ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights