বন্ধ হয়ে গেল গাজার একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতাল, আরো চরমে মানবিক বিপর্যয়

অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েলের টানা অবরোধের কারণে জ্বালানি সংকটের জেরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালটি। এর মধ্য দিয়ে মানবিক বিপর্যয় আরো চরমে পৌঁছলো অবরুদ্ধ ওই উপত্যকায়।

টানা প্রায় একমাস ধরে গাজায় সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। ফলে ভূখণ্ডটিতে স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা হুমকির মুখে পড়েছে।

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের মধ্যে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে সেখানকার একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতালটির পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, গাজায় ইসরায়েলি অবরোধের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাদ্য, পানি এবং বিদ্যুতের সরবরাহও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গাজার হাসপাতালগুলো এখন ইসরায়েলি হামলায় নিহত ও আহতদের ভিড়ে পরিপূর্ণ এবং জ্বালানিসহ নানা সংকট চিকিৎসা কর্মীদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি-ফিলিস্তিনি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক সুভি সুকেক বলেছেন, এই হাসপাতালটি আর কাজ করছে না।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বকে বলব, হাসপাতালকে পরিষেবার বাইরে রেখে ক্যান্সার রোগীদের নির্দিষ্টভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না।”

তুর্কি-ফিলিস্তিনি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো গাজা ভূখণ্ডের ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে ১৬টিই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া গাজার ৭২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের মধ্যে ৫০টিরও বেশি ক্লিনিকও এখন বন্ধ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন ৭০ জন ক্যান্সার রোগীর জীবন গুরুতরভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ আল জাজিরাকে বলেছেন, “হাসপাতালগুলো চালু না থাকলে গাজার হাজার হাজার রোগী জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যাবেন। ক্যান্সার রোগীদের স্বাস্থ্য ইতোমধ্যেই নাজুক। যদি তারা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পায়, তাহলে এটা তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড।” সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights