রাবিতে এনটিআরসিএ নিয়োগ নীতিমালা সংশোধনের দাবি

রাবি প্রতিনিধি

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অনুষ্ঠিত এক মানবন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, এই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে প্রথম থেকে সপ্তদশ নিবন্ধন পর্যন্ত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের মাদ্রাসাগুলোতে সহকারী মৌলভি ও প্রভাষক পদে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদনের সুযোগ পেত। কিন্তু ২০২০ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে এই সুযোগ হারায় ঢাকা, রাজশাহী, চট্রগ্রাম, জগন্নাথ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বীকৃত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হতে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা।

ইসলামিক ইস্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জুবায়ের আলম বলেন, এ নীতিমালা প্রয়োগ করে আমাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ আগেও অনেকে এ সুযোগ পেয়েছে। এই নীতিমালা বৈষম্যমূলক। তাই অবলম্বনে সংশোধন করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আ. ন. ম মাসউদ উর রহমান বলেন, নতুন নীতিমালায় ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক ও ঘৃণিত সিদ্ধান্ত। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ ) ‘অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-২০২৩’-এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আরবি ও ফিকহ বিভাগে সহকারী মৌলভি ও প্রভাষক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে ফাজিল বা কামিল ডিগ্রি অথবা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মাদ্রাসাসমূহ হতে ফাজিল বা কামিল ডিগ্রি অথবা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হতে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবি বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের নিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী। তবে পূর্বে এ সুযোগ পেতেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights