‘ভোটে যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি অগ্রাধিকার পায়’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, যারা তরুণদের, গণমানুষের আকাঙ্খার পরিপন্থী, তারা যেন নির্বাচনের সংগ্রামে বাদ পড়েন। আর যারা স্বচ্ছ সমাজ গড়ার পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সমাজ গড়তে চায়, তারাই যেন ভোটে অগ্রাধিকার পায়।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক নাগরিক সম্মিলনে এ কথা বলেন। ‘উন্নত বাংলাদেশের জন্য প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বৃত্তান্ত-৭১ নামের একটি সংগঠন এ সম্মিলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট নাগরিকেরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, আমরা যারা সমাজ বদলের কথা বলি, অর্থনীতি বদলের কথা বলি তরুণদের এই আশাগুলো তাদেরকে দেখাতে হবে। নির্বাচনে তরুণদের আকৃষ্ট করতে তরুণদের চিন্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। যারা তরুণদের মন জোগাতে পারবেন তারাই তরুণদের ভোটগুলো পাবেন।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক তরুণ শিক্ষার্থী বিদেশ চলে যেতে চায়, কেননা তারা এদেশে চাকরি পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরা শুধু তাদের দোষ দিতে পারি না যে তারা সঠিক শিক্ষা অর্জন করতে পারেনি বরং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। আমাদের তরুণদের কাছে আরেকটি অঙ্গীকার হতে হবে যে তারা যেন লেগে থাকে, আগামী দিনের নতুন বাস্তবতায়,

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমরা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ চেয়েছি, সেই প্রত্যাশিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছি, তাদের বিচারও আমরা পেয়েছি। আমার প্রত্যাশা খুবই কম। এখন যেটাই পাবো সেটা বাড়তি। তিনি আরো বলেন, যদি মনে হয় রাষ্ট্রের কোনো বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে তখন এটার সমাধানকল্পে কাজ করতে হবে। শুধু বসে কথা বা আলোচনা করলে হবে না। দেশের তরুণ সমাজকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন তাদের দেশের প্রতি মায়া কাজ করে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, সবাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলছেন। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কী? এর সংজ্ঞা কে দেবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেবে? অনেকেই বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অংশগ্রহণমূলক হবে না। আমি তো মনে করি, এমন দলকে আইন করে নির্বাচন থেকে নিবৃত্ত করা দরকার।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত ২৯৮টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তারা সব আসনে বিজয়ী হলেও আমি বিস্মিত হবো না। তবে, নির্বাচিত হলে তাদের দায়িত্ব বেড়ে যাবে। আমি চাই, নির্বাচনে জয়ী হলে তারা আক্ষরিক অর্থে ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনবে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল দৃশ্যমান। পাঁচ কোটি মানুষ ভাতা পাচ্ছে, গৃহ পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা অনেক অর্জনকে পিছনে ফেলে দিচ্ছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে টাকা পাচারকারী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শারফুদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিক আবেদ খান, মনজুরুল আহসান বুলবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকাইয়া কবির, বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভ‚ইয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, নির্মাতা কাওসার চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights