টরন্টোতে রিফাত নুর শান্তার সংগীত সন্ধ্যা

কানাডা প্রতিনিধি
অনুষ্ঠানটির নাম দেয়া হয়েছিলো ‘রিফাত নুর শান্তাঃ অ্যা নাইট অব মেলোডিজ’। কণ্ঠের অসাধারণ কারুকাজ আর সুরের মুর্ছনায় পুরো সন্ধ্যাটিকেই সত্যি সতি সুরের মূর্চ্ছনায় পরিপূর্ণ করে তুললেন শিল্পী। গানে গানে সমবেত টরন্টোর দর্শক শ্রোতা যেনো ভিন্নরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো।

শনিবার সন্ধ্যায় নন্দন ইভেন্টস সেন্টারে শিল্পী রিফাত নুর শান্তার এই একক সঙ্গীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী দিলারা নাহার বাবুর সঞ্চালনায় মনোমুগ্ধকর এ আয়োজনে শিল্পী রিফাত নুর শান্তা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে নানা ধরনের গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখেন।

শিল্পী রিফাত নুর শান্তার পরিবেশনার নিজস্ব একটা ধরন আছে, অবশ্যই সেটা বেশ আলাদা।গান নির্বাচন, গান নিয়ে কথোকপথন, দর্শকদের সাথে শিল্পী নিবিড় এবং নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ পুরো আয়োজনটিকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। হলভর্তি দর্শক শ্রোতাও পুরো তিনঘন্টা মন্ত্রমুগ্ধের মতো আচ্ছন্ন হয়ে শিল্পীর গান শুনেছেন।

সাধারণ দর্শকরা এতোই উৎফুল্ল হয়েছিলেন যে, গানের সাথে তারা ঠোঁট মিলিয়েছেন, কণ্ঠ ছেড়ে গেয়েছেন, নেচেছেন, করতালি আর করতালিতে অডিটোরিয়াম মুখরিত করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, শিল্পী অনুষ্ঠান শেষ করতে চাইলেও দর্শকদের অনুরোধে আবারো কণ্ঠে সুর তুলে নিতে হয় শিল্পীকে। আর সেই গানের সাথে প্রাণ খুলে নেচে গেয়ে শিল্পীর সাথে একাত্ম হয়ে যান দর্শকরাও।
শিল্পী রিফাত নুর শান্তার পরিবেশনার তালিকায় আধুনিক গান, হারানো দিনের গান, সিনেমার গান, ধামাইল গান, জনপ্রিয় হিন্দি গান সবই ছিল বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের কথাও ভুলেননি তিনি। দেশের গান দিয়ে শুরু করেছেন আবার দেশের গান দিয়ে শেষ করেছেন তিনি।

যন্ত্রাংশে টরন্টোর দক্ষ মিউজিশিয়ানদের পেশাদার সংগত পরিবেশনাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। যন্ত্রাংশে ছিলেন- কি- বোর্ডে মেহেদি ফারুক, অক্টাপেড এ সৌরভ ধ্রুব, ব্যাস গিটার এ জয়, লিড গিটারে আবির এবং বাঁশিতে ভাসু ও তবলায় শ্রীবাস।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আয়োজক-পৃষ্ঠপোষকদের পক্ষে স্থপতি মোস্তাক সারোয়ার এবং ফরিদা হক শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। শিল্পী রিফাত নুর শান্তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান লেখক রোমানা চৌধুরী। প্রসঙ্গত, ১৯৯০- ৯৭ সালে শিশু শিল্পী হিসেবে চারটি জাতীয় পুরস্কারসহ ১৯টি পুরস্কারে ভূষিত শিল্পী রিফাত নুর শান্তার টরন্টোয় এটিই তার প্রথম একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান।

রিফাত নুর শান্তার পরিবেশনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে টরন্টোর ‘বাংলা নিউজ’ এর সম্পাদক জয়ন্ত বনিক বলেন,ব্যক্তিগত জীবনে ইন্টিরিওর ডিজাইনার শিল্পী তার সুনিপুণ পরিকল্পনায় দেশের গান, নজরুল গীতি, ফোক, হিন্দী এবং বাংলা ও হিন্দী বিভিন্ন গানের সংমিশ্রণে ম্যাশ করে যেভাবে গানের ঢালি সাজিয়েছেন, যেভাবে তার সুললিত কন্ঠের যাদুতে মোহিত করেছেন সবাইকে তা থেকে তাকে ’মনের নকশাকার ‘ বা ’মেন্টাল ডিজাইনার’ বললে ভুল বলা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights