স্বামীর দেয়া আগুনে গৃহবধূর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যৌতুকের জন্য প্রাণ দিয়েছেন শাহিদা আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূ। স্বামীর দেওয়া আগুনে ঝলসে গিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। ঘটনার দিন আগুনে ঝলসে যেতে থাকা মাকে দেখে জড়িয়ে ধরে দেড় বছর বয়সী মেয়ে কন্যা সন্তানও গুরুতর আহত হয়েছেন। বাদ যায়নি ঘাতক স্বামী আলামিনও। বর্তমানে সেও ঢাকা মেডিক্যালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে ওই গৃহবধূ মারা যান। শাহিদার লাশ বুধবার রাতে গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার সকালে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আল-আমীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শাহিদার ছোট ভাই আবিদ মুন্সি।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট বছর আগে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আলাই মুন্সির মেয়ে শাহিদা আক্তারের সঙ্গে মধ্যপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে আল-আমীনের বিয়ে হয়। তাঁরা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। প্রথমে আল-আমীনের পরিবার বিয়ে মেনে নিতে না চাইলেও পরে যৌতুক পেয়ে মেনে নেয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। বিয়ের পর আল-আমীনকে যৌতুক দেওয়া হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এ টাকায় আল-আমীন মধ্যপ্রাচ্যে চলে যান। তিন বছর আগে দেশে ফিরে তিনি ভবঘুরে স্বভাবের হয়ে পড়েন। টাকার অভাব হলেই তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন। শাহিদার পরিবার থেকে একাধিকবার টাকাও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শাহিদাকে নিয়মিত মারধরের কারণে গ্রামে একাধিকবার সালিশও হয়েছে।
সোমবার সকালে টাকার জন্য শাহিদা আক্তারকে মারধর করতে থাকেন আল-আমীন। একপর্যায়ে নিজের মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল বের করে শাহিদার গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। অগ্নিদগ্ধ শাহিদা যখন চিৎকার করছিলেন, তখন তার দেড় বছরের শিশু আলিফাও চিৎকার দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে। এতে শিশু আলিফা দগ্ধ হয়। নিজের দেওয়া আগুনে আল-আমীনও দগ্ধ হন। গ্রামের লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তিনজনকেই সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী শাহিদার ছোট ভাই আবিদ মুন্সি বলেন, যৌতুকের জন্য আল-আমীন আমার বোনকে আগুনে পুড়িয়ে মারছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, অগ্নিদগ্ধ আল-আমীন শঙ্কামুক্ত হলেও তার মেয়ে শঙ্কামুক্ত নয়। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। পুলিশের নজরদারিতে আল-আমীনের চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights