ঝকঝকে হাত পা…

উম্মে হানি

রূপচর্চা কী শুধুই মেয়েদের, ছেলেদের নয়? এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়াটা খুব কঠিন কিছু নয়। কেননা, ছেলেদের ত্বক মেয়েদের তুলনায় একটু বেশিই মোটা বা পুরু। তন্মধ্যে কনুই ও হাঁটুর ত্বক হয় আরও বেশি পুরু। এ কারণে শরীরের অন্য অংশের তুলনায় এ অংশগুলো বেশি কালচে দেখায়। ছেলেদের ত্বকের যত্নে বাজারে নানা রকমফের ক্রিম বা লোশন রয়েছে। সব প্রোডাক্ট তো আর ভালো নয়, এজন্য যাচাই-বাছাই করেই তবে ভালো মানের ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। কেননা, প্রসাধনী ভালো মানের না হলে ত্বকের ক্ষতি হবেই।

ছেলেদের সাধারণত রোদে ঘোরাঘুরিটা বেশি হয়ে থাকে। এ কারণে হাতে কালচে আবরণ পড়ে। আর হাতটাই তো সবার নজরে আগে পড়ে। আর পা প্রায়শই ঢাকা থাকে। তা ছাড়া যারা বাইক নিয়ে চলাফেরা করেন তাদের বিপত্তিটাই বেশি। বাইরের ধুলোবালি আর সানবার্নে ত্বকের অবস্থা নাজেহাল। হাত-পায়ের যত্ন না নিলে ত্বক শুষ্ক ও বাজে দেখায়। তাই ঘরে ফিরেই চটজলদি হাত ও পা ধুয়ে নিতে ভুলবেন না। সঙ্গে খানিকটা বাড়তি যত্ন আপনার হাত-পায়ের ত্বক আরও ভালো থাকবে।

ছেলেদের কনুই, হাঁটু বা গোড়ালির মতো স্থানগুলো বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ থাকে। ফলে সেখানে হালকা ঘষাতেই কালো হয়ে যায়। তাই গোসল করার সময় অবশ্যই নিয়মিত এই অঙ্গগুলো পরিষ্কার করবেন। এজন্য ১ টেবিল-চামচ বেকিং সোডা ও পরিমাণমতো দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে এসব কালচে জায়গায় মেখে ১০/১৫ মিনিট মালিশ করুন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন করলে উপকার পাবেন। এ ছাড়া অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে কালচে ও রুক্ষ স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। আস্তে আস্তে দাগ উঠে যাবে। টকদই ও ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে লাগালেও উপকার পাবেন।
ছেলেদেরও হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া উচিত। হাতের যত্নে নানা ক্রিম কিংবা লোশন ব্যবহার করলেও পায়ের ক্ষেত্রে অনেকেই অবহেলা করেন। হাত কিংবা পা দু’টির জন্যই প্রয়োজন সমান যত্ন। হাত ও পায়ের যত্নে রইল পরামর্শ।

♦ প্রতিদিন ঘরে ফিরে কুসুম গরম পানিতে সামান্য শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। পায়ের ত্বকের ময়লা উঠে ত্বক কোমল হয়ে উঠবে।

♦ ভেজানো নখ কাটা সহজ। তাই নখ বড় থাকলে ভেজা থাকা অবস্থায় কেটে নিতে পারেন।

♦ হাত-পায়ের নখ কাটার আগে ১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে হ্যান্ডওয়াশ মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে হাত-পা ধুয়ে নিন। এবার তোয়ালে দিয়ে মুছে নেইল কাটার দিয়ে নখগুলো কেটে নিন।

♦ হাত-পা খসখসে হলে রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য পানির সঙ্গে অল্প একটু গ্লিসারিন মিশিয়ে হাত ও পায়ের ত্বকে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক নরম ও সতেজ থাকবে।

♦ জেন্টস পার্লারে গিয়ে মাঝে মাঝে হাত পায়ের মেনিকিউর-পেডিকিউর করাতে পারেন। চাইলে ঘরে বসেই এসব সেরে নিতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে সামান্য শ্যাম্পু ও পরিমাণ মতো লবণ মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট হাত-পা ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

♦ কুসুম গরম পানিতে ১ চা-চামচ শ্যাম্পু মিশিয়ে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ১০ মিনিট ভিজিয়ে নেইল ব্রাশ দিয়ে পায়ের নখ ও তলা পরিষ্কার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights