রাজবাড়ীতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি জটিলতা, অনিশ্চয়তায় অর্ধেক শিক্ষার্থী

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে নতুন কারিকুলামের ভর্তি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা। লটারিতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে অনেক দূরে অপেক্ষাকৃত খারাপ মানের বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন সন্তানদের। এতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে অভিভাবকদের। দরিদ্রতা ও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে এসব শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রবিবার বিকালে রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা অহীন্দ্র কুমার মন্ডলের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় ২০২৩ সালে পঞ্চম শ্রেণি হতে ২০ হাজার ৮৮৮ জন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাজবাড়ীতে ১৫৮ টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন কারিকুলামের নিয়ম মেনে ৯ হাজার ৪০০জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এই তথ্য দেওয়ার পর মুঠোফোনে তিনি জানিয়েছেন ২০২৪ শিক্ষা বর্ষের প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সঠিক তথ্য নির্বাচনে পর দেওয়া যাবে।
শনিবার জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া শ্যামামোহন ইনস্টিটিউশনের গিয়ে দেখা যায়, দুই সেশনের বিদ্যালয় এটি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২৩৩ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। লটারির মাধ্যমে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ৬৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেনি। লটারির ফল ঘোষণার সময় শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছেন। বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে কান্নায় মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন অনেক শিক্ষার্থী।

ভর্তি করতে আসা অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি পড়ালেখার দিক দিয়ে ভালো। প্রতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় বিদ্যালয়টিতে। নতুন কারিকুলামের নিয়মে ১৬৫ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ভর্তির সুযোগ না পাওয়া ৬৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নলিয়া শ্যামামোহন ইনস্টিটিউশনে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রবিবার আসেন একই ইউনিয়নের নটাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। নলিয়াতে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ার একজন অভিভাবক রাসেল শেখ। তিনি বলেন, আমার সন্তানকে ভর্তির জন্য নলিয়া শ্যামামোহন ইনস্টিটিউশনে আবেদন করেছিলাম। সেখানে চান্স পায়নি। নটাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আসছি ভর্তি করতে। এখানের শিক্ষকেরা বলছেন আমরা ৫৫ জনের বেশি ভর্তি করতে পারবো না। আবেদনের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি বেশ জটিলতার মধ্যে পড়েছি।

অভিভাবকেরা বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশিরভাগ অভিভাবক গরিব ও দরিদ্র। এসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। বাড়ি থেকে অনেক দূরে ভর্তি করলে লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া যুক্ত হবে। অনেকেই এই ব্যয় বহন করতে পারবেন না। যে কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে যেতে পারে।

নলিয়া শ্যামামোহন ইনস্টিটিউশনে সভাপতি এ কে এম ফরিদ হোসেন মিয়া বাবু। তিনি বলেন, আমি প্রচণ্ড চাপে আছি। নতুন কারিকুলামের নিয়মে আমি নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ভর্তি করতে পারবো না। যেহেতু একটি সেশনে ৫৫ জনের বেশি রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। অনেক অভিভাবক আন্দোলন করছেন।
নটাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলী আকবর শেখ বলেন, আমরা প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করতাম। এ বছর নতুন নিয়মে ৫৫ জনের বেশি ভর্তি করতে পারছি না। এর সমাধান না হলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যেতে পারে।

রাজবাড়ীর সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লটারির কারণে ভাগ্য বিড়ম্বনা হলে অনেক শিক্ষার্থীদের দূরের স্কুলে ভর্তি হতে হবে। এতে করে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো না কোনোভাবে ভর্তি হতে পারবে। তবে নির্বাচনের পরে জানা যাবে রাজবাড়ীতে কত শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights