রাবির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধস; চার দাবিতে মানববন্ধন

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসের ঘটনায় পুনরায় ভবনের গুণগত মান পরীক্ষাসহ চার-দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে জানানো অন্য দাবিগুলো হলো আহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কাজের অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী সবার উচিত এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। আমরা যখন এগিয়ে চলেছি তখন এই দুর্নীতি নামক কাল-সাপ আমাদের টেনে ধরছে। অবিলম্বে এই তদন্ত প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, এটা নিশ্চিত যে এখানে বড় ধরণের অনিয়ম ঘটায় ছাদ ধসে পড়েছে। অথচ দায়িত্ব থাকা ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই তদন্ত চলছে। আমরা আশঙ্কা করছি নির্মাণকাজে নিম্নমানের দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে তদন্তে বিলম্ব ঘটছে। পুরো ভবনের কাজ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। সুতরাং সুষ্ঠু তদন্ত ও দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে পুরো ভবনের মান যাচাই করা হোক।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক. সালেহ্ হাসান নকীব, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এর আগে, গত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান হলের ছাদ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় সাত শ্রমিক আহত হন। ঘটনার দিনই জরুরি সভা ডেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে বিশেষ কারণে ৩ দিন বিলম্বে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। ফলে কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত সময় আরো সাত কর্মদিবস বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার তারিকুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটি বেশকিছু জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ফলে একটু সময় লাগছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরো সাত কর্মদিবস প্রতিবেদনে জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights