নাভালনির মৃত্যু : রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভাবনা ইইউ’র

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, রুশ কারাগারে মারা যাওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর জন্য রাশিয়া দায়ী। তাই আরও কঠিন নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

ইইউ’র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন, ‘পুতিনের আমলে রাশিয়ার জেলে তাকে তিলে তিলে হত্যা করা হলো।’

সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ-র মন্ত্রীরা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইউলিয়া বলেছেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনই জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় নাভালনির মৃত্যুর জন্য দায়ী।’
ইইউ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, ‘নাভালনির অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রাশিয়ার পরিকল্পিত দমননীতির আরেকটি উদাহরণ। রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কর্তৃপক্ষকে যাতে এর মূল্য দিতে হয়, সেজন্য ইইউ সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।’

কবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে তা বোরেল জানাননি। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেওয়া, এর সঙ্গে জড়িতদের ইইউ’তে প্রবেশ করতে না দেওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকবে।

বোরেল বলেছেন, ‘এই ঘটনার জন্য কারা দায়ী, আমরা তাদের চিহ্নিত করব। এই কাজটা সহজ নয়। আর আমাদের রাশিয়ার দেওয়া তথ্যের উপরই নির্ভর করতে হবে।’

রাশিয়ায় বিরোধীদের আরও সমর্থন?

ইউরোপীয় পলিসি সেন্টারের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ মারিয়া বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত স্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে খুব একটা লাভ হবে না। এটা প্রতিরোধকের কাজও করবে না।’

তার বক্তব্য, ‘রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে ইইউকে। যে রাজনীতিকদের জীবনের ঝুঁকি আছে, তারা যাতে সপরিবারে ইইউ’র দেশে এসে থাকতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে তাদের কাজ চালাতে পারেন, সেই অধিকার তাদের দিতে হবে। তারা দেশ ছাড়তে চাইলে ইইউকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’

বোরেল বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিক্ষুব্ধদের অনেক ইইউ’র অনেক দেশই রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের সম্পর্কে কিছু বলা হয় না।’

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বলেছেন, ‘অধিকারের চেতনাকে চিরকাল চুপ করিয়ে রাখা যায় না। নাভালনি ছিলেন সেই বিরোধী নেতা, যিনি সাহসের সঙ্গে অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। এছাড়াও রাশিয়ার জেলে এমন অনেক বন্দি আছেন, যারা রাশিয়ায় অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে জেলে বর্বরোচিত অত্যাচার সহ্য করছেন।’

নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে?

ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ। সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লা কেনা, যাতায়াত এবং প্রায় দুই হাজার ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেওয়া।

ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকী আসছে। ইইউ’র কূটনীতিকরা তাই আরও একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চালু করতে চলেছেন। একশরও বেশি ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে তা চালু হবে। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হাঙ্গেরিও সবুজ সংকেত দিয়েছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার বলেছেন, তারা মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চান না। তবে এই পরিকল্পনার বিরোধিতাও তারা করবেন না। ফলে এই সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞার খসড়া অনুমোদিত হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার অর্থনীতির উপর চাপ পড়ে। তা সত্ত্বেও রাশিয়া দাবি করে, নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদের বিপাকে ফেলা যাবে না। রাশিয়া বিশেষজ্ঞ মারিয়া বলেছেন, নতুন যে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা চলছে, তাতে রাশিয়াকে সামরিক দিক থেকে চাপে ফেলা যাবে না।

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights