শিক্ষাঙ্গনে যৌন নিপীড়ন রোধের দাবিতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে করেছে জাতীয় মহিলা পরিষদ। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধন করেন তারা।

মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, অ্যাডভোক্যাসি এন্ড লবির পরিচালক জনা গোস্বামী, লিগ্যাল এইডের ঢাকা মহানগরের সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন।

বক্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সেলগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তার কোনো তদারকি নেই।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, ও স্কুলে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ২৪২ জন নারী শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় অধিকাংশ অভিযুক্ত রাজনৈতিক ছত্রছায়াসহ নানা কায়দায় পার পেয়ে যান। পারিবারিক চাপ, সামাজিক কটূক্তি, লজ্জা ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার ভয়ে ভুক্তভোগীদের ৯০ শতাংশ কোনো অভিযোগ করেন না।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হওয়ার কথা। তার বিপরীতে সেখানে অসামাজিক কাজ হয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, তার মান আজ কোথায় পৌঁছেছে! শিক্ষক নিয়োগে এখন সর্বত্র দুর্নীতি। প্রথম হয়েও অনেকের চাকরি হয় না। অথচ পঞ্চম-ষষ্ঠ হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়। তাদের পড়াশোনার, ক্লাস করানোর দক্ষতা দেখা হয় না। ফলে এর একটি প্রভাব পড়ে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন কি ধরনের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কেউ অর্থ কেলেঙ্কারিতে, কেউ আত্মীয়-স্বজনকে এনে চাকরি দিচ্ছেন। এরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়, তাহলে উন্নতি হবে কি করে! নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিবাদন ও নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের বিচারে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জনা গোস্বামী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী পরিবারের কাছে দেড় বছর থেকে বলছে, সে এই শিক্ষকের অধীনে কোনোভাবেই মাস্টার্স করবে না। এদের কোনো বিচার হয় না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনো যৌন হয়রানির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের রাজনীতি প্রবেশ করেছে। সেখানে নীল-সাদা দলের দৌরাত্ম্যে একটি দুষ্টু চক্র তৈরি হয়েছে। সবাই নিজের দলের লোককে বাঁচিয়ে দিতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights