দিল্লিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক

দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক কালীমন্দির সোসাইটি এবং আন্তর্জাতিক বাংলা ভাষা- সংস্কৃতি সমিতির যৌথ উদ্যোগে গতকাল রবিবার দিল্লিতে পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

এ উপলক্ষে চিত্তরঞ্জন পার্ক কালীমন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ। আরও ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভারতীয় ভাষা বিভাগের বাংলার অধ্যাপক ড. অগ্নিভ ঘোষ, কালীবাড়ির সচিব প্রদীপ মজুমদার, সভাপতি ড. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠান শুরু হয় প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং শহীদ বেদীতে পুষ্পনিবেদন করে। পরে নতুন প্রজন্মের ছাত্রী উষ্ণী দাশগুপ্ত মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ‌‘মোদের গরব মোদের আশা’ এই গানটি গেয়ে।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে প্রথমেই সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ড. শ্রীমতী চক্রবর্তী সব অতিথি ও উপস্থিত দর্শকদের স্বাগত জানান। পরে তিনি বাংলা ভাষার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্তব্য স্মরণ করান। এরপর কালীবাড়ি সোসাইটির সচিব প্রদীপ মজুমদার বাংলা ভাষার বর্তমান সংকটগুলোর কথা তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যাতে আরও বেশি করে এগিয়ে আসে তাদের মাতৃভাষা শিক্ষার জন্য সে ব্যাপারে সচেতন করেন।

পরেই কালীমন্দির সোসাইটির সভাপতি ড. শীর্ষেন্দু মুখার্জি বলেন, স্কুলে সুযোগ না পেলেও অভিভাবকরা যাতে বাড়িতে ছেলেমেয়েদের ভাষা শিক্ষার সুযোগ করে দেন। অনেক ক্লাব বা সমিতিতেও এই সুযোগ পাওয়া যায়। কালীবাড়িতেও নিয়মিত বাংলা শেখার ক্লাস হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে যেকোনোরকম সাহায্য দিতে সোসাইটি প্রস্তুত। এরপরে সমিতির কেন্দ্রীয় সচিব সুভাষ রায় বক্তব্য রাখেন।

তারপরে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এ ব্যাপারে ভারত সবসময়ই আমাদের দেশের পাশে ছিল।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাও বলেন। শেখ হাসিনা কতটা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যেপ্রেমী সে কথাও উল্লেখ করেন। বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসার বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী সবরকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত সেকথা জানান সাবান মাহমুদ।

বিশেষ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদের হাত দিয়ে মৃণাল কান্তি রায়, অনিতা হালদার এবং নবনীতা চ্যাটার্জিকে স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights