সীমান্ত সড়কে পাল্টে যাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চল

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি
পার্বত্যাঞ্চলের সীমান্ত সড়ক দৃশ্যমান হচ্ছে আগামী মে মাসে। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম সড়ক। সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার। প্রায় ৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

মে মাসে এ সড়কের প্রথম অংশ দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপে ২২০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। মে মাসে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক। এতে পার্বত্যাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ঘটবে অর্থনৈতিক প্রসার। একই সঙ্গে এটি আকর্ষণ করবে পর্যটকদেরও।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান মিলিয়ে সীমান্ত সড়কটি হবে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটারের। প্রকল্পের প্রথম ধাপে দৃশ্যমান হবে ৩১৭ কিলোমিটার। দ্বিতীয় ধাপের জন্য ৩৫০ কিলোমিটার কাজের প্রস্তুতি চলছে, যা শেষ হতে লাগবে আরও পাঁচ বছর। সড়কটি নির্মাণ হলে সংযোগ স্থাপিত হবে বান্দরবানের ঘুমধুম ও খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে ১৭, ২০ ও অ্যাডহক ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল ভূঁইয়া মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলছে সীমান্ত সড়কের নির্মাণকাজ। যথাসময়েই শেষ হবে কাজ। চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রথম ধাপের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হবে। আসছে মে মাসে এ ধাপের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।
এদিকে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করতে এসে মুগ্ধ হয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। এ সময় তিনি বলেন, চমৎকারভাবে চলছে সড়কের নির্মাণকাজ। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে এখন দৃশ্যমান এ সীমান্ত সড়ক। প্রথম ভাগের কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সড়ক উদ্বোধন করবেন। এর পরই উন্মুক্ত হবে সড়কটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights