পাহাড়ে কাটা মাংসের জমজমাট বাজার

মো. জহুরুল আলম, খাগড়াছড়ি

পাহাড়ে এখন কাটা মুরগির মাংসের বাজার জমজমাট। পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় সব ধরনের বাজারে কাটা মুরগির মাংস প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় পিকনিকসহ নানা অনুষ্ঠানে এসব মাংসের চাহিদা রয়েছে জেলাজুড়ে। যে কেউ ১০০ গ্রাম থেকে শুরু করে চাহিদামতো কিনতে পারেন মুরগির মাংস। পুরো মুরগির যে অংশ পছন্দ হয় তাই কিনতে পারছেন ক্রেতা।
ক্রেতারা জানান, কাটা মুরগির মাংস কিনলে তা রান্না করতে বেশি সময় লাগে না। এ মাংস খুব সহজে শুধু ধুয়ে রান্না করতে পারেন। এতে অনেক সময় বেঁচে যায়। ফলে পাহাড়ে এ মাংসের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে পাহাড়ের কর্মজীবী মানুষ কিংবা আগত পর্যটকরা এ মাংস বেশি কিনে থাকেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাজার থেকে পিস করে নিয়ে যাওয়া হয়। খাগড়াছড়িতে অনেক আগে থেকে কাটা মুরগির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। যাদের আস্ত মুরগি কেনার সামর্থ্য নেই তারা চাইলেই এখন ১০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাংস কিনতে পারছেন। পাহাড়ের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, কাটা মুরগির দোকানে ১০০ থেকে ৫০০ গ্রাম মাংস কেনার ক্রেতার ভিড় বেশি।

বিক্রেতারা জানান, বিশেষ করে এখানকার হাটবাজারে এসব মুরগির মাংস বিক্রি হয় ২ থেকে ৪ হাজার কেজি। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি কর্মজীবী মানুষেরও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে কম। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই খুশি। পাহাড়ের বিভিন্ন বাজারে মুরগির ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির মাংস বিক্রি করে থাকেন। প্রতিটি মুরগির আলাদা মূল্য নির্ধারণ করেন বিক্রেতারা। বাজারগুলোতে সাধারণত ব্রয়লার মুরগি কেটে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। কেজিপ্রতি দামের এমন পার্থক্যের কারণ হিসেবে দোকানদাররা বলছেন, ১ কেজি ওজনের মুরগি কাটার পর তার চামড়া, পশম ও পেটের ভিতরের নাড়িভুঁড়ি ফেলে দিলে মূল মাংস ৬০০ গ্রাম টেকে। যার ফলে দামের এ তারতম্য। এসব মুরগি কেটে আগুনে পুড়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে তা সতেজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পিস করে বিক্রি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights