সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি উদযাপন

এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানের আনন্দ, খুশির দিন নিয়ে আসে ঈদুল ফিতর।রোজা আসার পর থেকে সকলের মাঝে বাড়ি যাওয়ার আমেজ শুরু হয়। বাড়ির কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ঈদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সেই আনন্দ না পেলেও বন্ধু-বান্ধবের বাড়ি ফেরার আনন্দমাখা চোখ দেখতেই ভালো লাগে। তবে সকলেই তার সুখের নীড়ে ফিরতে পারে না। নানান কারণে কিছু শিক্ষার্থী ঢাকাতেই থেকে যেতে হয়।

ঈদ এমন একটি দিন যেইদিনে সকলে শ্রেণিবৈষম্য পরিহার করে ইদের নামাজ শেষে সব মুসলমান কোলাকুলির মাধ্যমে কুশল বিনিময় করে থাকে, যেটি পৃথিবীর একটি অন্যতম সুন্দর দৃশ্য। এদিন ধনী গরিব সবাই আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। আমার ঈদের সকাল শুরু হয় খুব ভোরে মায়ের সঙ্গে রান্না করার মধ্যে দিয়ে। তারপর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলে ঘুরতে যাওয়া।

এখন ঈদে যখন ছোটবেলার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে তখন ইচ্ছে করে অতীতে ফিরে দিনগুলোর আনন্দ আবারও উপভোগ করি। তখন সবাই মিলে তাল মিলিয়ে রমজান পালন, নতুন পোশাক কেনাকাটা,গাছ থেকে মেহেদী পাতা তুলে এক সাথে বসে মেহেদী বেটে ইচ্ছে মতো হাতে নকশাঁ দিয়ে হাত রাঙানো, ছাদে গিয়ে সকলে মিলে এক সাথে চাঁদ দেখা, ঈদের দিন নতুন পোশাক পরিধান করে সাজগোজ করে সবাই মিলে ঘুরাঘুরি করা, বড়দের থেকে সালামি পাওয়া এক অফুরান্ত আনন্দ।

প্রতিটা মানুষের জীবনে সেই ছোটবেলার আনন্দ আসে আবার সময়ের পালাবদলে চলেও যায়। বড় হওয়ার পর থেকে সালামি তেমন পেলেও দায়িত্ব করে সকলকে সালামি দিতে হয়। আমারা সকলেই ঈদ পরিবারের সঙ্গে অনেক আনন্দের সাথে উদযাপন করে থাকি।

কিন্তু ঈদের আনন্দ পরিবারের পাশাপাশি আমাদের উচিত, চারপাশের নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি উদযাপন করা।আমরা আমাদের সাধ্যমতো বাড়ির আশেপাশের গরিবদের মাঝে গিফট প্রদানের মাধ্যমে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি। ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক ঈদের আনন্দ, আর বিকশিত হোক ভ্রাতৃত্ব বোধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights