নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বাম্পার ফলন, শুরু হয়েছে ধান কাটা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
এবার কৃষকদের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বাম্পার ফলনের পর পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটা। কৃষকের মাঝে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দ। ঈদের আগে ধান তুলতে না পারায় ঈদের আনন্দ ফিকে থাকলেও ঈদ পরবর্তীতেই ঘরে ঘরে বইছে ঈদের আনন্দ। মাঠে মাঠে ধান কাটছে কৃষক। মনের আনন্দে মাড়াই কাজে ব্যস্ত কৃষাণীরা। কৃষি বিভাগের আশা হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকতে থাকতেই দ্রুত ধান কেটে ফেলার নির্দেশ কৃষি বিভাগের। যে কারণে কৃষকেদর পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকি মূল্যের ধান কাটার মেশিন দেয়া হয়েছে শতাধিক।

সরেজমিন নেত্রকোনার হাওয়ারাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠে দোল খাওয়া কৃষকের স্বপ্ন অবশেষে ধরা দিয়েছে হাতে। প্রায় বছরই নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সার্বক্ষণিক থাকেন আতঙ্কে। নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী- এই তিন উপজেলার কৃষকদের ভয় থাকে ফসল তোলা পর্যন্ত। তবে এবছর শিলাবৃষ্টি, আগাম বন্যাসহ অন্যান্য দুর্যোগ না হওয়ায় হাওরের কৃষকরা আনন্দিত। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহেই কাটতে পারছেন পাকা ধান।

দিনে দিনে হাওরের উর্বরতা নষ্ট হওয়ায় ২৮, ২৯ ধানেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন কৃষকরা। এবার স্বল্পকালীন নতুন ৮৮,৮৯ জাতের হাইব্রিড চাষ করায় ১৫ দিন আগেই কাটতে পারছেন ধান। গত কয়েক বছর পর এবার ধানের ফলন ভালো পেয়ে চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। শ্রমিকের পাশাপাশি মাঠে মাঠে ভতুর্কির মেশিনে (হারভেস্টার) চলছে দ্রুত ধান কাটা। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন সময় পেলে সম্পূর্ণ ধান কেটে শেষ করার কথা রয়েছে।
কৃষক রবিউল ইসলাম ও হোসনে আক্তার জানান, ধানের দর ভালো পেলে তাদের আগামী বছর পর্যন্ত খোরাকিসহ সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চলবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, জেলার হাওরাঞ্চলেই শুধুমাত্র এবার ৪১ হাজার ৭০ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ ভাগ ধান কর্তন হয়ে গেছে। জেলায় ৮৫০ টি মেশিন প্রস্তুত রয়েছে। এবার পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় হেক্টর প্রতি সাত থেকে আট টনের মতো ফলন আসছে ধানে।

জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, কৃষকদেরকে উৎসাহিত করতেই মাঠে আসা। আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটাকে উৎসবে রূপ দিতেই মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে আসা। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া এমন থাকলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত হাওরের সকল ধান কর্তন সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন এবার বাম্পার ফলনেও কৃষকরাও দারুণ খুশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights