ক্যানসার প্রতিরোধে এআই ‘জাদু’

অনলাইন ডেস্ক

এআই এখন প্রদীপের সেই জ্বিন’! চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এটি গুটিগুটি পায়ে ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে ক্যানসার গবেষণা ও চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের অন্যতম আশা-ভরসা হয়ে উঠেছে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম মেধা। আর সে কথাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ক্যানসার-বিষয়ক সংগঠন ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চ’ (এএসিআর)-এর বার্ষিক সম্মেলনে।

আমেরিকার সান দিয়েগো শহরে সম্প্রতি শেষ হয়েছে চার দিন ব্যাপী সম্মেলন। যোগ দিয়েছিলেন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি মানুষ। এদের মধ্যে কেউ চিকিৎসক, নার্স, কেউ গবেষক, কেউ নিজেই ক্যানসার রোগী, কেউ আবার রোগীর সেবাশুশ্রূষাকারী। ছিলেন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির প্রতিনিধি, ক্যানসার-সাংবাদিকেরাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, ক্যানসার নিয়েই বহু রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ না-হলেও তাদের জীবনযাপনের মান উন্নত হয়েছে। আমেরিকাতে যেমন মৃত্যুহার ৩৩ শতাংশ কমেছে (বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি)। এই উন্নত চিকিৎসার অন্যতম কারণ ‘পার্সোনালাইজড ট্রিটমেন্ট’। অর্থাৎ রোগীবিশেষে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা। আর এই ক্ষেত্রেই গবেষক-চিকিৎসকদের সাহায্য করছে এআই।
এএসিআর-এর সম্মেলনে ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, ক্যানসার গবেষক অরিন্দম বসু জানান, ‘প্রজেক্ট জিনি’ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে বিশ্বের ১৯টি ক্যানসার সেন্টার। এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হল ক্যানসার সংক্রান্ত হাজার হাজার ক্লিনিক্যাল তথ্য ও জিনোমিক তথ্য এআই-এর সাহায্যে একত্রিত করা। অরিন্দম বলেন, ‘প্রতিটি ক্যানসার রোগীর রোগ-চরিত্র ভিন্ন। এ হেন কর্কটরোগের বৈশিষ্ট্যগুলি যত বিশদে জানা সম্ভব হবে, তত ক্যানসারকে বাগে আনা সহজ হবে।’’

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার’ ও একটি প্রকল্পে হাত দিয়েছে। নাম ‘টিম উম্ব’। এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। এই ক্যানসার বাসা বাঁধে জরায়ুর পর্দায়। ‘টিম উম্ব’-এর লক্ষ্য এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারকে ভাল করে জানা এবং রোগের প্রথম পর্যায়েই তাকে চিহ্নিত করার পথ খুঁজে বার করা। গোড়াতেই যদি ক্যানসারের রাশ টানা যায়, সে ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচানো সহজ হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী মাইরিয়া ক্রিসপিন। তিনি ‘মেশিন লার্নিং’-এর উপর জোর দিয়েছেন। তার কথায়, ক্যানসার রোগীর সম্ভাব্য চিকিৎসা সহজ করে দিতে পারে এআই-প্রযুক্তি। ‘মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটেরিং’-এর কম্পিউটেশনাল অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান সোহরাব শাহ বলেছেন, রোগীর দেহে ড্রাগ রেজ়িস্ট্যান্স (কোনও ওষুধ কাজ না করার কারণ) অনুমান করতে সাহায্য করবে এআই। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিজ্ঞানী লোরেলেই মুচি জোর দিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এআই-এর সাহায্যে সঠিক ভাবে নথিভুক্তকরণে। কানাডার ‘প্রিন্সেস মার্গারেট ক্যানসার সেন্টার’-এর বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন হাইব-কেন্সের মতে, কার্সিনোজেনেসিস-কে বুঝতে সাহায্য করবে মেশিন লার্নিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights