রাবি ছাত্রলীগের ৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হল প্রহরীকে মারধরের অভিযোগ

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। রবিবার সোহরাওয়ার্দী হলের গেটে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কর্মচারী মনিরুল ইসলাম। তিনি হলের প্রহরীর দায়িত্বে আছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা একই হলের সহ-সভাপতি ও ইনিস্টিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের আতিকুর রহমান, মাদার বখ্শ হল ছাত্রলীগ কর্মী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুল আরিফিন খান সানি এবং একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ও মতিহার হল ছাত্রলীগ কর্মী আজিজুল হক আকাশসহ আরও কয়েকজন।

ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম বলেন, সকালে সাড়ে ছয়টার দিকে আতিকের নেতৃত্বে আকাশ, সানিসহ বেশ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। আমি নাকি নিয়াজ মোর্শেদকে সহযোগিতা করেছি, সেজন্য তারা আমাকে হাতে-গালে-মাথায় কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী শামসুল আরিফিন খান সানি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আরেক অভিযুক্ত আজিজুল হক আকাশ বলেন, আমরা সকালে হলে যাই। সেখানে গিয়ে গার্ডকে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা তার ফোন চেক করে দেখতে পাই সে শিবির-ছাত্রদল ও নিয়াজ মোর্শদকে আমাদের তথ্য পাচার করেছে। মারধরের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে দু-একটা চড়-থাপ্পর দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত হল ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল হলে একটা ঝামেলা হয়। তখন এই কর্মচারী আমাদের বিভিন্ন তথ্য বহিরাগত ও শিবিরকে দিয়েছে। সেই তথ্য আমরা পেয়েছি। তাই তাকে সতর্ক করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘তাকে কেউ মারধর করেনি। বহিরাগতদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীরা তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করেছে। তখন প্রাধ্যক্ষ এসে তাকে নিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘রাতের ঘটনার পরে আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাতে হলেই অবস্থান করি। সকালে আতিকের নেতৃত্বে সানি, আকাশসহ বেশ কয়েকজন হলের গার্ড মনিরুল ইসলামকে প্রচণ্ড মারধর করে। হলে যা শুরু হয়েছে কয়েকদিন পর হয়তো আমাদেরও মার খেতে হবে। এই ঘটনায় ওই কর্মচারীকে অভিযোগ দিতে বলেছি। সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে, গতকাল দিবাগত রাতে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব গ্রুপ এবং সোহরাওয়ার্দী হল সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে সাতজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের তিন ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights