মালয়েশিয়া যাওয়া হলো না তানভীরের, বাড়িতে এলো লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ট্রেন থেকে পড়ে নিখোঁজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের সোহেল মোল্লা তানভীরের লাশ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে নরসিংদী জেলার রায়পুরা ও কুমিল্লা জেলার গৌরিপুর এলাকার মাঝামাঝি স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

তানভীরের বয়স বাস্তবে ১৭ বছর। তবে প্রবাসে যাওয়ার স্বার্থে পাসপোর্ট করতে গিয়ে কাগজে কলমে বয়স কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৩১ মে বিকেলে সে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেশন পার হওয়ার পর উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পড়ে মেঘনা নদীতে ডুবে যায়।

তানভীরের আত্মীয় মো. হাসান জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাড়িতে লাশ নিয়ে আসা হয়। লাশ আসার পর বাড়িতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন তানভীর। বোন আশামণির বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারটিতে বাবা-মা ছাড়া আর কেউ রইলো না।
সোহেলের মামা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমার বোনের পরিবারে আর্থিক অনটন ছিলো না। ভাগিনা যেন জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল হয় সেজন্য তাকে প্রবাসে পাঠানোর চিন্তা করা হয়। এছাড়া প্রবাসে যাওয়া ও প্লেনে উঠার খুব শখ ছিলো তানভীরের। তার বাবা কখনো ছেলের শখ অপূর্ণ রাখেননি। প্রবাসে যাওয়ার বিষয়টা একরকম তার শখ পূরণ করার বিষয়ও কাজ করেছে।’

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘গত তিনদিন নৌ পুলিশসহ আমরা লাশ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করি। রবিবার দুপুরে রায়পুরা এলাকায় এক জেলে পানিতে লাশ ভাসতে দেখে সেখানকার পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাড়ে ছয়লাখ টাকা চুক্তিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা তানভীরের। ৩১ মে সকালে ঢাকায় যাওয়ার পর জানতে পারেন তানভীরের জন্য বিমানের টিকিট ম্যানেজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী পাঁচ সাত দিনের মধ্যে টিকিট ম্যানেজ করে তানভীরকে পাঠানো হবে। এ অবস্থায় তানভীর ও তাঁর স্বজনরা উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়ার পর সিট থেকে উঠে দরজার সামনে আসেন তানভীর। মুহূর্তেই সে মেঘনা সেতুতে পড়ে যায়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে সঙ্গে থাকা স্বজনরা বুঝতে পারেন তানভীরই পড়ে গেছেন। এরপর থেকে তার লাশ খোঁজাখুজি শুরু হয়। রবিবার এক জেলে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন গিয়ে তানভীরকে শনাক্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights