জাতিসংঘ পুলিশে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র:

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের চতুর্থ সম্মেলনে (UNCOPS 2024) জাতিসংঘ পুলিশের কার্যক্রমে ফলপ্রসূ অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার ও প্রস্তুতির পুনর্ব্যক্ত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

“শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অভিনব কৌশল ও সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র” শীর্ষক সম্মেলনের মূল সেশনের উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার বক্তব্যে, বর্তমান পরবর্তিত পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাসঙ্গিক ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষায়িত পুলিশিংয়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রম চলমান দেশসমূহের আইন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থাসমূহের দক্ষতাবৃদ্ধির উপরও জোর দেন তিনি।

এছাড়াও তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের শেষান্তে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের শান্তিরক্ষায় নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার প্রদানের আহবান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মহিলা পুলিশ সদস্য প্রেরণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে নানবিধ অপপ্রচার রোধে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরেন। পাশাপাশি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের গুরুত্ব উপস্থাপন করে এ ধরনের প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে জোর দেন।
এই সম্মেলন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদৌলে সানিয়াং, জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ফর পিস অপারেশন্স জ্যঁ পিয়েরে লাখোয়া, এবং আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ফর অপারেশনাল সাপোর্ট অতুল খারে’র সাথে তিনটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলদের সাথে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির নানা ক্ষেত্র আলোচনায় উঠে আসে। এসময় উভয় আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলই শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ হতে আরও শান্তিরক্ষী প্রেরণের অনুরোধ জানান। গাম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গাম্বিয়ার অংশগ্রহনে বাংলাদেশ সহযোগিতা প্রদান করায় ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও এই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ২৬-২৭ জুন দুদিনব্যাপী জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কামরুল আহসান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে সম্মেলনে যোগদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights