ইনিংস ব্যবধানে জয়ে সিরিজ উইন্ডিজের

অনলাইন ডেস্ক

এক প্রান্ত আগলে রেখে চেষ্টা করে গেলেন ক্রেইগ আরভিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য ইনিংস হার এড়াতে পারলেন না জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। স্পিন সহায়ক উইকেটে আবারও বল হাতে আলো ছড়ালেন গুডাকেশ মোটি। বাঁহাতি এই স্পিনারের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্ট তিন দিনেই জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বুলাওয়ায়োতে দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ৪ রানে জিতেছে ক্যারিবিয়ানরা। দুই ম্যাচের সিরিজ তারা জিতে নিয়েছে ১-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জিম্বাবুয়ে অল আউট হয় ১৭৩ রানে। প্রথম ইনিংসে তাদের ১১৫ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৯২ রান।

চার নম্বরে নেমে ১০৫ বলে ৪টি চারে ৭২ রান করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন আরভিন। তাকে ফিরিয়েই ম্যাচে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মোটি। এক বল পর আরেকটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন তিনিই। এবার ৬২ রানে মোটির প্রাপ্তি ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে নিয়েছিলেন ৭টি। এই প্রথম টেস্ট ম্যাচে ১১ উইকেটের বেশি পেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো স্পিনার, ৯৯ রানে ১৩টি।
মোটি ভেঙেছেন প্রায় ৭৩ বছরের রেকর্ড। ১৯৫০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সনি রামদিনের ১৫২ রানে ১১ উইকেট ছিল এতদিন কোনো ক্যারিবিয়ান স্পিনারের ম্যাচ সেরা বোলিং। পেস-স্পিন মিলিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ম্যাচে মোটির চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পেরেছেন কেবল একজন। ১৯৭৬ সালে দা ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৯ রানে ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন মাইকেল হোল্ডিং। মোটি ছাড়া ১৩ উইকেট আছে আরও দুজনের- কোর্টনি ওয়ালশ ও শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

এই সিরিজের আগে মোটি টেস্ট খেলেছিলেন স্রেফ একটি। গত বছরের জুনে অভিষেকের ওই ম্যাচে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। সেখানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তার প্রাপ্তি ১৯ উইকেট! ম্যাচ সেরার পাশাপাশি সিরিজ সেরাও তিনিই।

কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৮ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাটিং শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ দিন তারা যোগ করতে পারে স্রেফ ২ রান। নিজের পরপর দুই ওভারে জেসন হোল্ডার ও মোটিকে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ভিক্টর নিয়াউচি। ৫৬ রানে এই পেসারের প্রাপ্তি ৫টি।
১৭৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১৫ রানের মধ্যেই টানুনুরওয়া মাকোনি ও চামি চিবাবাকে হারায় জিম্বাবুয়ে। আলজারি জোসেফের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে করে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন মাকোনি। চিবাবাকে বোল্ড করে দেন আরেক পেসার হোল্ডার।

প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও আরভিন। ইনিংস সেরা ৪১ রানের জুটি ভেঙে প্রথম শিকার ধরেন মোটি। তাকে সুইপের চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন ৭ চারে ৪৩ রান করা কাইয়া। বাঁহাতি স্পিনার পরে বোল্ড করে দেন মিল্টন শুম্বা ও টাফাদজওয়া সিগাকে। ডোনাল্ড টিরিপানোর স্টাম্প এলোমেলো করে দেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। মোটির চতুর্থ শিকার ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তখন ১৩২ রানে ৭ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের। এর মাঝেই আরভিন ফিফটি পূর্ণ করেন ৭৩ বলে। তিনি এরপর ৩৪ রানের জুটি গড়েন ব্র্যান্ডন মাভুটার সঙ্গে। চা বিরতির পর অবশ্য ৯ বলের মধ্যে শেষ ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১১৫

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৯২.৩ ওভারে ২৯২ (আগের দিন ২৯০/৮) হোল্ডার ৪, জোসেফ ৪, মোটি ১২, গ্যাব্রিয়েল ০*; নিয়াউচি ১৭.৩-১-৫৬-৫, মাসাকাদজা ২০-৫-৫৮-১, চিভানগা ১৪-০-৫৯-০, টিরিপানো ১৩-২-২৬-০, মাভুটা ২৪-৩-৭৩-৩, শুম্বা ৪-০-১৭-০)

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৪৭.৩ ওভারে ১৭৩ (কাইয়া ৪৩, মাকোনি ১, চিবাবা ১, আরভিন ৭২, শুম্বা ৭, সিগা ২, টিরিপানো ০, মাসাকাদজা ৭, মাভুটা ১৬, নিয়াউচি ২, চিভানগা ৩*; জোসেফ ৭-২-২৩-১, গ্যাব্রিয়েল ৭-১-২০-১, হোল্ডার ৪-১-১৬-১, মোটি ১৭.৩-১-৬২-৬, চেইস ১১-২-৩০-১, ব্র্যাথওয়েট ১-০-৩-০)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস ও ৪ রানে জয়ী

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০তে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ম্যান অব দা ম্যাচ: গুডাকেশ মোটি

ম্যান অব দা সিরিজ: গুডাকেশ মোটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights