পানির নিচে শস্যভান্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিল পানিতে ডুবে গেছে। রোপণ করা আমনের ৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর চারা এখন পানির নিচে। পুরো গুমাইবিল যেন সমুদ্র। কৃষক বলছেন, বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে। এভাবে কখনই পানি বাড়েনি। এভাবে পানি জমে থাকলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাপ্তাই সড়কের গুমাইবিলের মরিয়মনগর ও চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের বিশাল এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বিশালাকৃতির ডোবায় রূপ নিয়েছে এ শস্যভান্ডার। ৩ থেকে ৪ ফুট পানি জমে রয়েছে বিলে। বিলের পারে কৃষককে উদ্বিগ্ন হয়ে রোপণ করা চারাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের গুমাইবিল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ‘গুমাইবিলের সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের মধ্যে ৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর রোপণ হয়। চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে গুমাইবিলসহ কিছু বিল পানির নিচে রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নেমে গেলে আমন চাষে তেমন ক্ষতি হবে না। এবার ৭০ শতাংশ ব্রি-ধান ৫১ রোপণ করা হয়; যা বন্যার পানিতে ১৪-১৫ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জোয়ারের পানি এলে পানি বেড়ে যায় আর ভাটা পড়লে পানি কমে যায়। যদি সাত দিন পর্যন্ত পানিতে ধানের চারা ডুবন্ত অবস্থায় থাকে তাহলে ব্রি-ধান ৫১ ও ৫২ ছাড়া অন্যান্য জাতের কিছু ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা কৃষককে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি যাতে বৃষ্টি থেমে গেলে দ্রুত রিকভার করতে পারেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, ‘গুমাইবিলের পানি যাতে নেমে যায়, পানি যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হয় নজর রাখা হচ্ছে। গত তিন দিনের টানা বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলসহ একাধিক বিল পানির নিচে রয়েছে। এবার বেশির ভাগ কৃষক বন্যাসহনশীল জাতের আমন চারা লাগিয়েছেন। টানা কয়েক দিন পানি থাকলেও এসব চারা নষ্ট হবে না।’

গুমাইবিলের পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের ইছামতী ইউনিটের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে গুমাইবিল ডুবে গেছে। বিলের আশপাশে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights