হুইপ ইকবাল, বিচারপতি এনায়েতুর ও ইমদাদ সরকারকে কলকাতায় পালিয়ে যেতে সহযোগিতাকারীরা এখন ফর্মে

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥

দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হুইপ ইকবালুর রহিম, সাবেক বিচারপতি এনায়েতুর এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকারকে কলকাতায় পাঠানো আওয়ামীলীগ নেতারা এখন শহরের দাপটের সহিত চলাফেরা করছেন।

৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট মধ্যরাতে সদর উপজেলার শংকরপুর ইউপির বনতারা সীমান্তের মহনপুর নদী পার হয়ে গিলাবাড়ী দিয়ে ট্যাক্সি যোগে কলকাতা পালিয়ে গেছেন দিনাজপুর তিন নাড়ু গোপাল। পলাতকরা হলেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হুইপ ইকবালুর রহিম, সাবেক বিচারপতি এনায়েতুর এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার। শংকরপুরের জালালপুর গ্রাম থেকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের উচ্চমান সহকারী ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ আলমের মাইক্রোযোগে বনতারা সীমান্তে পৌঁছায় এই তিন জন। এরপর মহনপুর নদীর মাঝি নুর ইসলামের সাথে ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে নদী পার হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে ভারতের গিলাবাড়িঘনে পৌঁছানো তারা সেখানে আগে থেকেই ভাড়া করে রাখা ট্যাক্সি যোগে কলকাতায় পৌঁছানো এই তিন আওয়ামীলীগ নেতা। সে সময় সহযোগী শংকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য ও হুইপের দালাল হিসেবে পরিচিত আশফাক আহম্মেদ, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মওদুদ উল করিম বাবু।

জানা গেছে, সেই রাতে জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে আতাউর চেয়ারম্যানকে ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে আসেন শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মওদুদ উল করিম বাবু। অপরদিকে শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ আলম তার ব্যক্তিগত মাইক্রো যার নম্বর- (ঢাকা মেট্রো-চ ২০-০২৬৩) যোগে পলাতক এই জনকে বনতারা মহনপুর নদীর ঘাটে পৌঁছে দিয়ে সে রাতেই জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের তার গ্রামের বাসায় অবস্থান করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কোনো নিয়মনীতির অবজ্ঞা না করে ছুটি দেখিয়ে পলাতক রয়েছে মাসুদ আলম। অন্যদিকে আগেই থেকেই ভারত সীমান্তে ট্যাক্সি ভাড়া করে রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য আশফাক আহম্মেদ তিনি সেখানে নগদ অর্থ বুঝে নেন ১৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মাসুদ আলমের নিকট ১৫ লক্ষ টাকা ও মওদুদ উল করিম বাবুর নিকট ৭ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগের পতন হলেও কোন এক অপশক্তির কাছে হেরে গিয়েছে দিনাজপুরের প্রতিবাদী মানুষগুলো। দীর্ঘ ১৬ বছর শত জুলুম, নির্যাতন, মামলা, হামলা সহ্য করে দেশবাসী স্বাধীনতার যে আনন্দ উপভোগ করেছিল তা এখন আর চোখে পড়ে না। কারণ টাকা হলেই নাকি বাঘের চামড়া দিয়ে কম্বোল তৈরি করা যায় তা প্রমাণিত হলো দিনাজপুরে।

নৌকার মাঝি নুর ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এতো রাতে আপনারা কোথায় যাবেন। এইসময়ে তো গাড়ি পাওয়া যাবে না। তারা হাসি মুখে উত্তর দিলেন আমাদের গাড়ি ভাড়া করা আছে আর যাচ্ছি বেড়াতে কয়েকদিন পড়ে তোমার নৌকায় করেই পাড় হয়ে আসবো। আমাদের যাওয়ার বিষয়টি কাউকে বলিও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights