বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোলে শীর্ষে আর্সেনাল
তার বিশ্বস্ত হাতের ওপর ভর করে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ট্রফিটা উঠেছিল মেসির হাতে। আর বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভসটাও ওঠে তার হাতে। তিনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
অথচ সেই মার্টিনেজের চরম ভুলেই শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলা হেরে গেছে আর্সেনালের কাছে। ব্যবধান ছিল ২-৪ গোলের। নিজেই নিজেদের জালে বল জড়িয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
এই জয়ের ফলে আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠে এলো আর্সেনাল। ২৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৫৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানসিটির পয়েন্ট ২৪ ম্যাচে ৫২। আর অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ২৩ ম্যাচে ২৮। তারা রয়েছে ১১তম স্থানে।
এই ম্যাচেও নিশ্চিত পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ত্যাগ করার মুখে দাঁড়িয়েছিল আর্সেনাল। আগের তিন ম্যাচের দুটিতে হার এবং একটি ড্র করার ফলে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল গানাররা। বিশেষ করে ম্যানসিটির কাছে হারার পর শিরোপা জয়ের স্বপ্নটাই তাদের ভাঙতে বসেছিল।
কিন্তু অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত আর্সেনালের গোল ছিল ২-২। স্টপেজ টাইমেই বাজিমাত করে গানাররা। এর মধ্যে বড় ভুল ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজের। ৯০+৩ মিনিটের সময় নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন অ্যাস্টন ভিলার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। পিছিয়ে পড়ে তারা। হতাশ হওয়া এই মুহূর্তেরই আবার সুযোগ নেয় আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। ৯০+৮ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন তিনি।
অথচ ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে প্রথমে গোল দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল অ্যাস্টন ভিলাই। ৫ম মিনিটেই নিচু অথচ একটি শক্তিশালী শটে আর্সেনালের জালে বল জড়ান ওলি ওয়াটকিনস।
তবে ১৬ মিনিটের মাথায় দলকে সমতায় ফেরান বুকায়ো সাকা। দুর্দান্ত এক শটে ভিলার জাল তছনছ করে দেন তিনি। কিন্তু ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলা ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে ব্যবধান ২-১ করে ফেলে ৩১ মিনিটে। দুর্দান্ত এক দলীয় খেলার দারুণ ফিনিশার ছিলেন আরেক ব্রাজিলিয়ান স্টার ফিলিপ কৌতিনহো।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানেই। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল। যার ফলে ৬১ মিনিটে ওলেকজান্ডার জিনচেঙ্কোর গোলে গানাররা সমতা ফেরানোর পরেই খেলার ধরন পাল্টে যায়। সংযুক্ত সময়ের তিন মিনিটে (৯০+৩) জর্জিনহোর শট প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের গোলে ঢুকিয়ে দেন মার্টিনেজ। পরে জয়ের গোল করেন মার্টিনেলি।
ম্যাচের পর আর্সেনাল তারকা ওলেকজা্ডার জিনচেঙ্কো বলেন, ‘এই ম্যাচ থেকে আমরা অসাধারণ একটি শিক্ষা পেয়েছি। আমাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ম্যাচ থেকে বের হয়ে যাইনি কিংবা ভাবতে পারবো না যে, আমরা সবকিছু অর্জন করে ফেলেছি।’
