এসএন শিপব্রেকিং ইয়ার্ড বন্ধ করতে বেলার লিগ্যাল নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পের আলোচিত ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী প্রকাশ ডিসকো শওকতের মালিকানাধীন ‘এসএন কর্পোরেশন শিপব্রেকিং ইয়ার্ড’র কার্যক্রম বন্ধ রাখার লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। একই সাথে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ, হতাহতদের সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা খরচ এবং পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয় নোটিশে।
নোটিশে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (ডিজি), বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং এসএন করপোরেশন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী শওকত আলী চৌধুরীকে বিবাদী করা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়- অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজভাঙা কার্যক্রমের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেলা উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করেছে। যা চলমান মামলা হিসেবে আদালতে বিবেচিত রয়েছে। আদালত মামলার রায় ও আদেশের মাধ্যমে শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া জাহাজভাঙা ইয়ার্ডগুলো যাতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সে বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের সুস্পষ্ট রায় ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ৭ সেপ্টেম্বর জাহাজভাঙার সময়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১২ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। দগ্ধ শ্রমিকদের শ্বাসনালীসহ শরীরের ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এসএন করপোরেশন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ২০১০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ১৩ বার। এসব ঘটনায় প্রাণ হারায় প্রশিক্ষণবিহীন ১২ জন শ্রমিক ও আহত হয় ১৩ জন। একই ইয়ার্ডে বারবার এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জাহাজভাঙা অব্যাহত রয়েছে।
নোটিশে বলা হয়- শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণে মালিকপক্ষ কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মারাত্মক এ ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনোরূপ তদারকির ব্যবস্থাও নেই। এ ধরনের ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিধান থাকা সত্ত্বেও কমিটি কর্তৃক পরিদর্শন/পর্যবেক্ষণ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এস হাসানুল বান্না স্বাক্ষরিত নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিসে দাবি করা হয়- এসএন করপোরেশনের জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডের সকল কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ করে, আদালতের নির্দেশ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা তদন্ত সাপেক্ষে জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডের সকল ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও অনুমোদন বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।
