অতিবর্ষনে নড়াইলের সড়কের বিভিন্ন অংশে ধ্বস
শুভ সরকার, নড়াইল থেকে
অতি বর্ষনে নড়াইল জেলার লোহাগড়া-নহাটা-কালিশংকরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ ধ্বসে
গেছে। এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন অংশ ধ্বসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। নবগঙ্গী নদী তীরবর্তী
এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধ্বসে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকি
নিয়ে চলাচল করছে হালকা যানবাহন ও পথচারীরা। অতি দ্রুত প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা
না হলে সড়কের বিভিন্ন অংশ নতুন করে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, লোহাগড়া-নহাটা-কালিশংকরপুর সড়কটি লোহাগড়া
উপজেলা শহর হতে জয়পুর, কাশিপুর, নোয়াগ্রাম, নলদী ইউনিয়ন অতিক্রমা করে মাগুরার নহাটা
হয়ে মাগুরা হেলা শহরের সাথে মিশেছে। লোহাগড়া উপজেলার উপর দিয়ে মাগুরা জেলার শালিখাসহ
বিভিন্ন এলাকার যানবাহন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সড়কটির
বেশ গুরুত্ব রয়েছে। পদ্মা সেতু ও মধুমতি সেতু নির্মাণের পর সড়কটির গুরুত্ব আরো বেড়ে
যায়। নবগঙ্গা নদীর ভেড়ীঁবাধ হিসেবে এই সড়কটি নির্মাণ করা হলেও গুরুত্ব বিবেচনায়
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সড়কটি পাঁকা করে। য়ার কারনে যানবাহন চলাচলে আরো সুবিধা হয়।
অধিক যানবাহন চলাচলের কারনে ৫/৬ বছর আগে সড়কটি প্রশস্ত করা হয়।
সড়কের অধিকাংশ এলাকা নবগঙ্গী নদীর পাড়ে হওয়ায় এবছর অধিক বৃষ্টিপাতের কারনে
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সড়কের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর, ব্রাহ্মণডাঙ্গা প্রাথমিক
বিদ্যালয়, বাড়ীভাঙ্গা সেতুর পাশের অংশ. নলদী ইউনিয়নের জালালসী মাদ্রাসা সহ আশেপাশের
এলাকা, নলদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব এলাকায় রাস্তার
প্রায় অর্ধেক বা কোন কোন স্থানে কিছুটা কম অংশ জুড়ে ধ্বসে গিয়েছে। এছাড়াও
বিভিন্ন অংশ ধ্বসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
জানাগেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের মধ্যে গত ২০দিনের ব্যবধানে ৩/৪ টি নিম্নচাপ ও
লঘুচাপের কারনে নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। লঘুচাপের কারনে গত
৩ ও ৪ অক্টোবর, নিম্নচাপের গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ও গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনদিন ভারী
বর্ষন হয়।
নলদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান বলেন,‘ সড়কটির নলদী বিএসএস মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের সামনের অংশ ও ব্রাহ্মণডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশ ভারী
বর্ষণের কারনে নদীগর্ভে ধ্বসে পড়েছে। এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে কমবেশি
ভেঙ্গে পড়েছে। সড়কের ধারণ ক্ষমনা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারনে ভারী যানবাহন চলাচল
এখন অনেকটাই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে নলদী, মিঠাপুর, ব্রাহ্মণডাঙ্গাসহ
পাশেপাশের কয়েকটি হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাটসহ কৃষি পণ্য বেচা-কেনা হয়। এসব
হাটের পণ্য ট্রাকযোগে এই সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। কিন্ত
সড়কটি ধ্বসে যাওয়ার কারনে এখন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া মাগুরার শালিখা
উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকার কিছু যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে লোহাগড়া উপজেলা
শহরের ওপর দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। সড়কটি অত্যান্ত
গুরুত্বপুর্ণ হওয়ায় দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’
নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মুক্তি প্রসাদ
চ্যাটার্জী ও সমাজ সেবক শামীম পারভেজ জনি জানান, এই সড়কের ব্রাহ্মণডাঙ্গা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশ ধ্বসে পড়েছে। ব্রাহ্মণডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয়টিও ঝুকিতে রয়েছে। এই সড়কের আশেপাশের এলাকা ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্ক্ধাসঢ়; করা
যাচ্ছে। জরুরীভাবে প্রতিরোধের ব্যবস্তা গ্রহণ করা না হলে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল
পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কলাগাছী এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মোল্যা বলেন, ‘ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাঞ্চনপুর
মৎস্যজীবি পাড়ায় একটি অংশ বেশ আগেই ধ্বসে পড়েছে। এই বৃষ্টিতে আরো ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে। এই মৌসুমে অতিবর্ষনের কারনে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ঝুকিপূর্ণ হয়ে
পড়েছে। ’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘
লোহাগড়া-নহাটাকা-কালিশংকরপুর সড়কের নড়াইল জেলার মধ্যে রয়েছে ২৫ কিলোমিটার।
বাকি অংশ মাগুরা জেলার মধ্যে। এই সড়কটি বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমাদের পক্ষ
থেকে সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পাথমিকভাবে প্রতিরোধের জন্য চেষ্টা
চালানো হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্প তৈরি করে স্থায়ীভাবে সড়কটি প্রতিরোধের জন্য কাজ চলছে।
এদিকে সড়কটি ধ্বসে যাওয়ার পর নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব যোবায়ের
হোসেন চৌধুরী, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতিমা আজরিন তন্বী
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। #
