জলবায়ু সহনশীল স্বল্প মেয়াদী বিনাধান-১৭ চাষে কৃষক বেশি লাভবান
দিনাজপুর প্রতিনিধি
বিনাধান-১৭ একটি উচ্চ ফলনশীল, খরা সহিষ্ণু স্বল্প মেয়াদী আমন ধান চাষে কৃষক বেশি লাভবান এই ধান কর্তনে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিনাধান-১৭ প্রজনন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টি না হলেও এ জাতটির ফলনের তেমন ক্ষতি হয়না এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে পানির স্তর ৭০ থেকে ৮০ সে.মি. নিচে থাকলে ও মাটির আর্দ্রতা শতকরা ২০ ভাগের নীচে নেমে গেলেও ভাল ফলন দিতে সক্ষম।
রবিবার বিকালে জলবায়ু সহনশীল স্বল্প মেয়াদী বিনাধান-১৭ কর্তন উপলক্ষে আরডিআরএস বাংলাদেশ কোর কম্প্রিহেসসিভ প্রোগ্রামের আওতায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের বোর্ডেরহাট গ্রামে এই কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা মিলে প্রদর্শনী প্লটের কৃষক নাজমুল ইসলাম এর জমির কর্তনকৃত ধানের মাড়াইয়ের পরে ফলন পরীক্ষা করেন। বিনাধান ১৭ এর ফলন ২০ বঃ মিঃ এ ১৪% আর্দ্রতায় ফলন প্রতি শতাংশে ৩৮ কেজি হিসাবে একরে ৩.৮ টন হেক্টরে পরিমাপ করা হয়।
কৃষক মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, বিনাধান ১৭ যেহেতু একটি খরা সহিষ্ণু ধানের জাত, তাই দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে এ অঞ্চলে এ ধানের সম্ভাবনা আরও বেশি এবং ধান আগাম হওয়ার ফলে দাম বেশি পাবে এবং ধানের খড় গবাদি পশুর খাবার যোগান দিবে। যে সময় জমিটি পড়ে থাকতো সেখানে আগাম সরিষা/আলু চাষাবাদ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হবে। অল্প সময়ে দুটি ফলন পাওয়া যাবে। এর কারনে কৃষকদের এই ধান চাষাবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
রানীপুকুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান রুপসানা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রানীপুকুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আল্লামা আজাদ ইকবাল ও বিরল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। আরডিআরএস বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা (কৃষি) রবিউল আলম, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার সুমিত্র কুমার সরকার এবং রানীপুকুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্যসহ এলাকার ধান চাষীগন।
কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শনী প্লটের মাঠ পরিদর্শনসহ ধান কাটার আয়োজন করা হয় এবং প্রদর্শনী প্লটের কৃষক নাজমুল ইসলাম বিনাধান-১৭ এর উৎপাদন কার্যক্রম বর্ণনা করেন।
