মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার অভিযোগে শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশালের বানারীপাড়ায় খাল থেকে মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধারের আটদিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে ছাত্রের ভাই বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় মামলা করেন বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোমিনউদ্দিন।

মামলায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তিন শিক্ষকসহ ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজসে হত্যার উদ্দেশ্যে লাশ গুম করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের ছাত্র সৈয়দ আল-ইয়াসিনের (১৪) লাশ গত ১৯ অক্টোবর পাশের খাল থেকে উদ্ধার করা হয়। ইয়াসিন উপজেলার বড় চাউলাকাঠি গ্রামের মৃত মো. সিরাজুল হক মিয়ার ছেলে। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলো মো. ইয়াসিন। তাকে হত্যার অভিযোগ এনে তার ভাই সৈয়দ আল রুম্মান বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার আসামীরা হলেন- মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রায়হান হাওলাদার, অধ্যক্ষ আব্দুর রব মিয়া, আহমাদুল্লাহ আহম্মদ, শিক্ষক আব্দুর রব মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল্লাহ মিয়া ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলমগীর হাওলাদার।

বানারীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিনউদ্দিন জানান, মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার অভিযোগ এনে তার ভাই মামলা করেছে। মামলায় মাদ্রাসার শিক্ষক পিটিয়ে ও লাথি দিয়ে দেয়ালের উপর ফেলে হত্যা ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

মামলার বাদী সৈয়দ আল রুম্মান বলেন, ‘গত জুলাই মাসে ইয়াসিনকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সে কোরআনের ২৮ পারা হাফেজ ছিলো। গত ১৭ অক্টোবর মাকে ফোন করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রব মিয়া জানান ইয়াসিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির ইয়াসিন কাউকে না জানিয়ে কোথাও যায় না। তার নিখোঁজের বিষয়টি প্রথমে মেনে নিতে পারিনি।’

রুম্মান অভিযোগ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ আব্দুর রব মিয়া মাদ্রাসার আশেপাশে খুঁজতে না দিয়ে তাদের মিস গাইড করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে খালের মধ্যে লাশ পাওয়া যায়।’

রুম্মান জানান, ‘ইয়াসিনের দাফনের পর মাদ্রাসায় গিয়ে জানতে পারি তার নিখোঁজের বিষয়টি আশেপাশের কেউ জানতো না। মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের মাধ্যমে জানতে পারি ঘটনার দিন শিক্ষক আহমাদুল্লাহ আহম্মদ হুজুরের নেতৃত্বে ছাত্ররা মাটি এনে মাদ্রাসার উঠোনে রাখে। সৌখিন পরিবেশে বেড়ে ইয়াসিন কখনোই শ্রমমূলক কাজ করেনি। তাই ক্লান্ত হয়ে পাকা ঘরের মেঝেতে বসে পড়ে। তখন মাদ্রাসার শিক্ষক রায়হান হাওলাদার তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে।’

‘এক পর্যায়ে ওর বুকে, চোখে মুখে সজোরে লাথি দেয়। এতে ইয়াসিন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে সেখানে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর ইয়াসিনকে কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে আব্দুর রব মিয়া, রায়হান হাওলাদার, আহমাদুল্লাহ আহম্মদসহ কয়েকজন ধরে গুদাম ঘরে রাখে। পরে রাতে ইয়াসিনের লাশ গুম করার উদ্দেশ্য নদীতে ফেলে দেয়। ইয়াসিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের শাস্তি চেয়েছেন ভাই রুম্মান।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights