লবণাক্ত জমিতেও চাষ করা যায় যে সূর্যমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমিতে এবং বিরূপ আবহাওয়ায় ফলন উপযোগী সূর্যমুখীর নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে কৃষি বিজ্ঞানীরা। তুলনামূলক খাটো জাতের এই সূর্যমুখী গাছে উৎপাদন হবে অন্য জাতের চেয়ে ৬৫ ভাগ বেশি। নতুন সূর্যমুখী চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হবে এবং ভোজ্য তেলে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে আশা উদ্ভাবকদের। নতুন জাতের সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য তেল আমদানি হয়। যা টাকার অংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়ানোর অংশ হিসেবে বিভিন্ন জাত নিয়ে গবেষণা করে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। ২০১৯ সালে সূর্যমুখীর নতুন একটি জাত উদ্ভাবন করে তারা। গত ৩ বছর ধরে নিজস্ব আঙ্গিনায় পরীক্ষামূলক চাষাবাদে সাফল্য পাওয়ায় বারি-৩ নামে নতুন সূর্যমুখীর এই জাত এবার মাঠ পর্যায়ে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান জানান, নতুন জাতের সূর্যমুখী বিরূপ আবহাওয়া এবং লবণাক্ত জমিতে রোপণের উপযোগী। এই গাছ লম্বায় ছোট, মাত্র এক থেকে দেড় মিটার। এ কারণে ঝড়-ঝঞ্চায় গাছ হেলে পড়ে না। ঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অন্য জাতের থেকে ৬৫ ভাগ উৎপাদন বেশি হবে নতুন সূর্যমুখীতে।
কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলীমুর রহমান বলেন, ‘বারি সূর্যমুখী-৩ রবি মৌসুমে নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত রোপণ করা শ্রেয়। এর জীবনকাল ৯০ থেকে ১০৫ দিন। এর হেক্টর প্রতি ফলন দেড় থেকে ২ টন। যা অন্য জাতের চেয়ে প্রায় ৬৫ ভাগ বেশি।’

এই কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র কুন্ডু বলেন, ‘নতুন জাতের সূর্যমুখী চাষ করলে কৃষক অধিক ফলন পাবে। এতে তারা লাভবান হবে এবং দেশে ভোজ্য তেলের ঘাতটি কমবে।’

নতুন জাতের সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, বরিশাল জেলা কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক।

কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মাঠে নতুন সূর্যমুখীর প্রদর্শনী দেখে তাদের কাছ থেকে নতুন জাতের সূর্যমুখীর বীজ নিয়ে আগামীতে রোপণের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

নতুন জাতের সূর্যমুখী উদ্ভাবন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য জন্য আশীর্বাদ বলে জানিয়েছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘নতুন জাতে দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখীর উৎপাদন বাড়লে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।’ এতে দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে বলে আশা করেন তিনি।

২০২১-২২ সালে বরিশালে ৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন সূর্যমুখী উৎপাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights