ভারত কেন পাকিস্তানে খেলতে চায় না, জানতে চেয়ে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি

অনলাইন ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের অংশগ্রহণ করা, না করা নিয়ে নাটকীয়তার যেন শেষ নেই। ভারতের গণমাধ্যমে দাবি হাইব্রিড মডেলে আসর আয়োজনে রাজি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আর আমিরাতে। তবে তাদের এই দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়েছে দিয়েছে পিসিবি। তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে হলে পাকিস্তান এসেই খেলতে হবে। দুই দলের এমন দ্বন্দ্বে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভাগ্য এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।

ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা। হাতে খুব বেশি সময় নেই। যদি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না যায়, তা হলে প্রতিযোগিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই যখন অবস্থা ঠিক সেই মুহূর্তে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে পিসিবি। সেই চিঠিতে তারা জানতে চেয়েছে, ভারত দলের পাকিস্তানে খেলতে যেতে না চাওয়ার আসল কারণ কী?
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’পিসিবির এক সূত্রের বরাত দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার খবরটি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ২০০৮ সালের পর আর পাকিস্তান সফর করেনি ভারত ক্রিকেট দল। এবার তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে ভারতে না যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেছে ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’র কথা। এ বছরের গোড়ার দিকে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা বলেছিলেন, ভারত সরকার অনুমতি দিলেই বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাবে।

পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে ভারতের অনড় সিদ্ধান্ত জানার পর পিসিবি বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে। জিও নিউজ পিসিবি সূত্রের উল্লেখ করে জানিয়েছে, হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন না করার ব্যাপারে অনড় পাকিস্তান।

আবার টুর্নামেন্ট যদি পাকিস্তান থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে না–ও খেলতে পারে। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভাগ্যে কী লেখা আছে, এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না।

অনেকেই বলছে, শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট যদি পাকিস্তানে হয় এবং ভারত অংশ না নেয়, তাহলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে আইসিসির আয় অনেকটাই কমে যাবে।

পিসিবি বলছে, পাকিস্তান না খেললেও একই অবস্থা হবে।

এ ব্যাপারে জিও নিউজকে পিসিবির সূত্র বলেছে, ‘ভারতের অংশগ্রহণ যদি আইসিসির আয়ে ভূমিকা রাখে, তাহলে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের ভূমিকাও তো গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পাকিস্তান যদি হাইব্রিড মডেলে রাজি না হয় এবং ভারত যদি পাকিস্তানে খেলতে যেতে রাজি না হয়, তা হলে পুরো প্রতিযোগিতাই সরিয়ে দিতে পারে আইসিসি। সে ক্ষেত্রে কোনও নিরপেক্ষ দেশে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেই প্রতিযোগিতা শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনও দলেরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে আপত্তি থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু পাকিস্তান এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে না পারলে খেলবে না বলে জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights