ব্রিজ না থাকায় দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

শুভ্র মেহেদী, জামালপুর

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মাদরদহের শাখা নদীর ওপর ব্রিজ নেই। তিন ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। সরাসরি গাড়ি চলাচল না করায় কেউ এসব গ্রামে আত্মীয়তাও করতে চায় না। এলজিইডি বলছে, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে। মেলান্দহের নাংলা ইউনিয়নের হরিপুরের মাদরদহের শাখা নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে নাংলা, কুলিয়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত পারাপার হতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে এসব গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেননি। এসব গ্রামে উৎপাদিত ফসল সরাসরি বাজারে নিতে না পারায় যুগ যুগ ধরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন কৃষক। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। বাঁশের সাঁকোর কারণে সহজে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন যেতে পারে না এসব গ্রামে। তাই রোগীকে কোলে উঠিয়ে বা কয়েকজন মিলে ভার সাজিয়ে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। এতে রোগী নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্বজনদের। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এ সাঁকো দিয়ে। আবার অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতেও চায় না। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো দিয়ে সহজে পার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সময়মতো নৌকা না পাওয়া আর নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনাও ঘটে এ স্থানটিতে। এ বাঁশের সাঁকো ভেঙে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে অনেক। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রফিক ও সুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, ‘সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় এ গ্রামে কেউ গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে পারে না। শুধু একটি ব্রিজ না থাকায় আমরা ভালো ঘরে মেয়ে বিয়ে দিতে পারি না। শুধু তাই নয়, এ গ্রামের ছেলেদের কাছেও ভালো ঘরের মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। বিয়ের সম্বন্ধ এলেও ভেঙে যায়।’ তাঁরা বলেন, ‘নিজেদের তৈরি বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে যুগ যুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও কোনো গাড়ি নিয়ে আসা যায় না। তাই কেউ অসুস্থ হলে চরম বিপদে পড়তে হয় আমাদের। কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। তাই সঠিক দামও মেলে না।’

এলজিইডির মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় বলেন, ‘চিনিতোলা থেকে হরিপুরে যাওয়ার জন্য একটি ব্রিজের খুবই প্রয়োজন। ৬০ মিটারের একটি ব্রিজের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন পেলেই এ নিয়ে কাজ শুরু করা হবে।’

শুধু আশ্বাস নয়, মাদরদহের শাখা নদীর ওপর দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ হবে-এমনটা প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights