আলেপ্পো দখলের পর হামার পথে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা

অনলাইন ডেস্ক

সিরিয়ার সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির-আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা গেলো কয়েকদিনের সংঘাতের জেরে আলেপ্পো শহরের অধিকাংশ এলাকা দখলে নেওয়ার পর এবার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ হামার দিকে এগোচ্ছে।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা সানা এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার এক আকস্মিক হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আলেপ্পোর প্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে বিদ্রোহীরা। ফলে প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আবদুল রহমান পরদিন শনিবার বলেন, আলেপ্পো শহরের অর্ধেকই এখন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

এর ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা দেশটির গৃহযুদ্ধ ২০২০ সাল থেকে মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিল আসাদ সরকার।

সিরিয়ার সেনাবাহিনী হামলাকারীদের হাত থেকে শহর রক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থায় উত্তেজনার পারদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে যে বিদ্রোহীরা বর্তমানে তাণ্ডব চালাচ্ছে, সন্ত্রাসী হামলা যত তীব্রই হোক না কেন তাদের পরাজিত করা হবে। স্থানীয় সময় শনিবার আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনালাপে আসাদ জোর দিয়ে বলেন, সব সন্ত্রাসীর মোকাবেলায় সিরিয়া তার স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করে যাচ্ছে।

সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির-আল-শাম, যা পূর্বে জাবহাত আল-নুসরা নামে পরিচিত ছিল, তারা সম্প্রতি উত্তর সিরিয়ায় সরকার-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে আক্রমণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে রাশিয়া ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যায়।

শুক্রবারের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধারা আলেপ্পোতে প্রবেশ করে। ২০১৬ সাল থেকে সিরিয়ার সরকারি নিয়ন্ত্রণে ছিল শহরটি। এক বিবৃতিতে সিরিয়ার জেনারেল কমান্ড বলেছে, হাজার হাজার বিদেশি সন্ত্রাসী, ভারী অস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আলেপ্পো রক্ষায় বেশ কয়েকজন সিরীয় সেনা নিহত হয়েছেন। জেনারেল কমান্ড জানিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী আলেপ্পোর সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে সফল হয়েছে এবং পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে শহর থেকে সরে এসেছে।

সিরিয়া ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমান বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে আলেপ্পোর শহরতলিতে হামলা চালিয়েছে। এদিকে বিদ্রোহীরা আলেপ্পোতে ঢুকে পড়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়ায় অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। তবে এখন পর্যন্ত এসব সহায়তা পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে গণতন্ত্রের দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সরকার দমন-পীড়ন চালালে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পর থেকে এই লড়াইয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights