বৈধ জমির মালিকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর রানীনগরে বৈধ জমির মালিকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে নওগাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার সকালে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম রকি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৭ নভেম্বরে কয়েকটি পত্রিকায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মাজার ও ঈদগাহ উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সংবাদ আমার নজরে আসে। প্রকাশিত সংবাদটি শতভাগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তারা বিবাদমান মাজার বা ঈদগাহের কোন পক্ষও নয়। অতীতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় লোকদের ছত্রছায়ায় রানীনগর উপজেলার ভেটুরা মৌজার ৫১৮নং দাগে ঈদগাহের ৩৬ শতাংশ এবং ৫১০নং দাগে ঈদগাহের ৬০ শতাংশ মোট ৯৬ শতাংশ সম্পত্তি জনসাধারণের। বাকি ৫ একর ৮১ শতাংশ সম্পত্তি আকবর আলী প্রামাণিকের নামে আর এস ৪৪নং খতিয়ান রয়েছে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপি নামধারী কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরা আগের দখলবাজদের বিতাড়িত করে নতুন করে ঐ দরগাহ ও ঈদগাহ ব্যতীত আকবর আলী প্রামাণিক নামিয় পুকুরের মাছ লুট করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুয়া সভাপতি সেজে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে নতুন করে অত্র এলাকায় এবং জমির বৈধ মালিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা হলো, ১৯২০ ও ১৯৬২ সালে নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলাধীন ভেটুরা মৌজায় ১৭৭ ও ১৭৮ নং দাগের পুকুর ও গোচর উল্লেখপূর্বক মোট ৬ একর ৭৭ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন হেতু প্রামানিক ও তার নাতি আকবর আলী প্রামানিক। ১৯৭২ সালের জমি জরিপের সময় অত্র মৌজার ৫১০নং দাগ ঈদগাহ ও ৫১৮নং দাগে দরগাহ উল্লেখপূর্বক বাকি ৫০৯, ৫১৯ ও ৫২০নং দাগের মোট ৫ একর ৮১ শতাংশ জমি আকবর আলী প্রামানিকের নামে রেকর্ড হয়।
বিগত ২০০৭ সালে ভেটুরিয়া গ্রামের আব্দুল করিম, চকারপুর গ্রামের আনিছার রহমান বাদী হয়ে ঐ পুকুরের পানি সর্বসাধারণের ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে নওগাঁ জজ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালে শুধুমাত্র পুকুরের পানি সাধারণের ব্যবহারের পক্ষে কোর্ট রায় দেন। বিবাদী সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। মামলাটি এখনো উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। ২০১৯ সালের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের নামধারী দুষ্কৃতিকারী আব্দুল হাকিম গং পুকুরের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ ও আমাদের লাগানো গাছ এবং শতবর্ষী তেতুল গাছসহ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার গাছ আত্মসাৎ করে। গত ৫ আগস্ট এর পরে বিএনপি নামধারী ভুয়া সভাপতি দাবি করে আব্দুস সামাদ ও তার সহচর ওসমান, মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, আজিজার রহমান ও শাহজান আলীসহ আরো অনেকেই প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে। পরবর্তীতে তারাই আবার ঐ জমি দখলের নীলনকশা স্বরূপ সংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি জমির বৈধ মালিক হিসেবে ঈদগাহ ও দরগাহের পার্শ্ববর্তী আমার ৫০৯নং, ৫১৯ নং এবং ৫২০ নং দাগের মোট ৫ একর ৮১ শতাংশ জমি বিনা বাধায় ভোগদখলে আপনাদের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় সেকেন্দার আলীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
