১৯৩ দোকান বরাদ্দে জালিয়াতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন দুটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দে ভয়াবহ জালিয়াতি ঘটেছে। ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরে ১৪৪টি ও ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ৪৯টি দোকান বরাদ্দে ছলচাতুরী করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। গুলিস্তান হকার্স মার্কেট ও বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট দুটি ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর ও দক্ষিণ নামে পরিচিত। এ দুই মার্কেটের পঞ্চম তলায় ৩ শতাধিক দোকানের মধ্যে ১৯৩টি কাগজপত্র জালিয়াতি করে ভুয়া ছবি ও পরিচয়পত্রের সাহায্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারি মার্কেটে প্রভাব খাটিয়ে নকশাবহির্ভূতভাবে শত শত দোকান বানিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের সাবেক এমপি আফজাল হোসেনকে সামনে রেখে দেলোয়ার হোসেন দেলু, নাজমুল হুদা, মোজাম্মেল হক মজু, হুমায়ুন মোল্লা ও জহিরুল ইসলাম সিন্ডিকেট করে দোকান বাণিজ্য করেন। ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আফজালসহ অন্যরা আত্মগোপনে চলে গেলেও অবৈধ পন্থায় তৈরি করা দোকান এবং দখলদাররা বহাল আছে। তবে দোকান করছেন ভাড়াটিয়ারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নথি থেকে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে দোকান মালিকদের তালিকাসহ গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার ১০টি মার্কেট বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনে হস্তান্তর হয়। তালিকায় শুধু দোকান মালিকদের নাম ও বাবার নাম ছিল। কোনো ছবি বা ঠিকানা ছিল না। এ সুযোগে একটি চক্র এক বছর পরে জালিয়াতির মাধ্যমে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেটের ৪৯টি এবং গুলিস্তান হকার্স মার্কেটের ১৪৬টি ভুয়া নামের তালিকা ডিএসসিসিতে পাঠায়। সাবেক গুলিস্তান হকার্স মার্কেটের (বর্তমানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৪৪টি দোকান মালিক সমিতির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো সঠিক বলে সমিতির প্যাডে সার্টিফিকেট দিয়ে দেন। এতে সিন্ডিকেটের পকেটে যায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। মূলত সিন্ডিকেটের হোতারা বেনামে এসব দোকান বরাদ্দ নিয়ে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলোয়ার হোসেন দেলু, নাজমুল হুদা, মোজাম্মেল হক মজু গংরা নিয়মবহির্ভূত দোকান বানিয়ে কোটি কোটি টাকা জালিয়তি করেছেন। আমরা এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
