উদ্বৃত্ত ধানের দেশ রংপুরে চাল আসে দক্ষিণাঞ্চল থেকে

নজরুল মৃধা, রংপুর

উদ্বৃত্ত ধানের দেশে চাল আসে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরের রংপুর বিভাগের প্রায় দেড় কোটি মানুষের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন আমন, আউশ ও বোরো উদ্বৃত্ত হলেও চালের দাম কমছে না।

প্রতিটি ফসল ওঠার মৌসুমে একটি সিন্ডিকেট মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের থেকে কমদামে খাদ্য শস্য ক্রয় করে মজুদের পাহাড় গড়ে মুনাফা লুটছে। মজুদ বিরোধী অভিযানের ঘোষণা থাকলেও তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অঞ্চল হলে রংপুরের বিভাগের মানুষকে চাল কিনে খেতে হচ্ছে কুষ্টিয়া যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্য জেলাগুলো থেকে। কারণ অটো রাইস মিলের ৮০ শতাংশই ওই অঞ্চলে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, রংপুর অঞ্চলে আবাদযোগ্য জমি রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ হেক্টর। রংপুর বিভাগের মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এর মধ্যে ১১ শতাংশ রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ এবং খাদ্য গ্রহণে অনুপোযোগি। এই ১১ শতাংশ বাদ দিলে খাদ্য গ্রহণকারী জনসংখ্যা হচ্ছে এক কোটির কিছু ওপরে। একজন মানুষ প্রতি দিন গড়ে ৫৫৩ দশমিক ০৬ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। সেই হিসেবে রংপুর অঞ্চলের খাদ্য চাহিদা হচ্ছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। ফসল উৎপাদন হয়েছে ৫৫ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে। মোট উৎপাদন থেকে চাহিদা বাদ দিলে দেখা যায় এক বছরের রংপুর অঞ্চলে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৭ লাখ মেট্রিক টন। এই উদ্বৃত্ত ধানের উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষিণাঞ্চলে চলে যায়। সেখান থেকে চাল হয়ে আবার রংপুরেই ফিরে আসে।

কৃষিবিদদের মতে এ দেশের কৃষিভিক্তিক অর্থনীতিতে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ফসল ওঠার শুরুতেই এক শ্রেণির মধ্যস্বত্ব ভোগী গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে নেমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এর কোন সুফল মিলছে না। প্রতিটি ধানের মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে আটো রাইস মিল মালিকরা রংপুর থেকে ধান কিনে মজুদের পাহাড় গড়ে তোলে। এরা মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে চাল ক্রয় করে খেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে প্রতিমণ ধান প্রকার ভেদে এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। চাল প্রকার ভেদে ৫৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা শুধু ধান চালেই উদ্বৃত্ত নয়। তারা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শাকসবজি উৎপাদন করে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights