মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি করবে ছাত্রদল

শফিকুল ইসলাম সোহাগ ও শরিফুল ইসলাম সীমান্ত

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির সূচনা করতে চায়।

গতকাল বিএনপির নয়া পল্টনের কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
: ছাত্রদল নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

নাছির উদ্দীন : ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর দেশে ইতিবাচক রাজনীতির যে আলোচনা চলছে তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ছাত্রদলের সাংগঠিক অভিভাবক তারেক রহমানও বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দকে বলেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্রদলের অংশীদার করার জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে। আমাদের দেড় শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশের ২ হাজারের অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। গত ১৫ বছর শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ছাত্রলীগ নেতিবাচক ও দখলদারিত্বের ছাত্ররাজনীতি করেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির সূচনা করবে। এসব বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি পরিচালিত হবে।

: ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

নাছির উদ্দীন : জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে যে ২ সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন তারা সবাই কিন্তু পুলিশের গুলিতে মারা যাননি। দেশের মানুষ দেখেছে, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। সুতরাং, এসব সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে- এটি হয়ে উঠেছিল গণ অভ্যুত্থানের একটি জনআকাক্সক্ষা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি।
: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে আপনি কীভাবে দেখেন? আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা সম্পর্কে কিছু বলুন।

নাছির উদ্দীন : বাংলাদেশে যতবারই গণতন্ত্র, মানবাধিকার হরণ হয়েছে ততবারই এ দেশের ছাত্র-জনতা এগিয়ে এসেছে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র সংগঠন। শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে সারা বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার নেতা-কর্মী জেলবন্দি হয়েছেন এবং ৫ হাজারের অধিক নেতা-কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অনেক ছাত্রদল নেতা-কর্মী আটক হয়ে পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
: গত চার মাসে গণ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?

নাছির উদ্দীন : গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে দেশের শাসনভার আঁকড়ে রেখেছিল। আমরা আশা করছি, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করে জনগণের সরকারের হাতে শাসনভার অর্পণ করে জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে।

: অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

নাছির উদ্দীন : জুলাই-আগস্টের সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের যৌথ অংশীদারিত্বে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ছিল এই আন্দোলনের প্ল্যাটফরম। কিন্তু এখন যদি সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরই একমাত্র ছাত্র প্রতিনিধিত্বমূলক ছাত্র সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে সে অনুযায়ী গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে অপরাপর ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে ২৮টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা মনে করছি, বর্তমান সরকার পুরো আন্দোলনের কৃতিত্ব শুধু এই একটি প্ল্যাটফরমের হাতে কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফরমটির সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে আমরা দেখেছি গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে শুধু তারাই অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, তারাই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানাচ্ছি।
: আপনাকে ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights