লাইব্রেরি নয় যেন চোর মাদকসেবীর আস্তানা!
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীর ১৭০ বছরের পুরনো পাবলিক লাইব্রেরি ভবনটি অযত্ন ও অবহেলায় পরিত্যক্ত এক ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পাঠকদের পরিবর্তে এখন ভবনটি চোর আর মাদকসেবীর নিরাপদ আস্তানা। লাইব্রেরির জানালার গ্রিলসহ লৌহজাত এবং মূল্যবান মালামাল চুরি হওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ভবনটি। লাইব্রেরিতে থাকা ১০ হাজার বই যে কোনো সময় চুরি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা গেছে, ১৮৫৪ সালে সদর রোড বিবি পুকুরের পূর্বপাড়ে ১৭ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় বরিশাল পাবলিক লাইব্রেরি। প্রতিষ্ঠার বছর থেকে ১৩১ বছর পর নগরীর বান্দ রোডে ৫৬ শতাংশ জমিতে একতলা পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০ বছর আগে লাইব্রেরি ভবনটি পাঠকশূন্য হয়। ১৩ বছর আগে লাইব্রেরির দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়। ৯ বছর আগে লাইব্রেরি পুরোপুরি বন্ধ হয়।
বর্তমানে লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা পিয়ন শহীদ গাজী বলেন, এক সময় দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবানসহ প্রায় ১৪ হাজার বইয়ের সংগ্রহ ছিল। দরজা-জানালার সঙ্গে চুরি হয়ে গেছে অনেক মূল্যবান বইও। অরক্ষিত লাইব্রেরি ভবনে এখনো কমপক্ষে ১০ হাজার বই রয়েছে। যা রক্ষায় অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ১০ থেকে ১২ বছর আগেও দিনে দেড়-দুই শ লোক বই পড়তে আসতেন। এখন লাইব্রেরির মধ্যে সেই পরিবেশও নেই আর পাঠকও আসেন না। বর্তমানে প্রতি রাতেই এ লাইব্রেরিতে চুরি হয়। দিনে তিনি সামাল দিলেও রাতে আর পারছেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সারা দিন বন্ধ থাকে লাইব্রেরি ভবনের প্রধান ফটক। লাইব্রেরি ভবনের চারপাশের জানালার কাচগুলো ভাঙা। সন্ধ্যা নামলেই পরিণত হয় স্থানীয় মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে। জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে লাইব্রেরির সদস্য ছিলেন ১ হাজার ১০০ জন। এর মধ্যে আজীবন সদস্য ৬০০ আর সাধারণ সদস্য ৫০০ জন। পদাধিকার বলে পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি হন জেলা প্রশাসক। সর্বশেষ ২০১২ সালে সাত সদস্যের লাইব্রেরি পরিচালনায় অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি বরিশালের অতিপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি স্থাপনা। শিগগিরই লাইব্রেরি পরিদর্শন করে এটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
