হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত
প্রতিদিন ডেস্ক
হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলেই গতকাল সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতের তীব্রতার সঙ্গে বয়ে চলছে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল গোটা দেশ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
নীলফামারী : তীব্র শীত জেঁকে বসেছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। গতকাল থেকে নীলফামারীতে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া বইছে। প্রচ- শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী, দিনমজুর, খেতমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। এদিন সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিন ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের প্রকোপে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, এদিন সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামীতে তাপমাত্রা কমে শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে।
বগুড়া : দুই দিন ধরে বগুড়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গতকাল জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শীত বাড়ায় শিশু ও বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীতজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
পরিবহন চালকরা জানান, কুয়াশায় সড়কে কিছু দেখা যায় না। এ কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ধীরগতিতে চলাচল করতে গিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এদিকে ভোরে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন।
রংপুর : রংপুরে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি। সেই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কাবু হয়ে পড়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ধরনের আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকবে।
গাইবান্ধা : তীব্র শীত আর কুয়াশায় উত্তরের জেলা গাইবান্ধার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে দিনের বেলায়ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। এ কারণে সকালে সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। গত দুই দিন থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে নৌযান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা আর হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও গরিব মানুষ। অনেক এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। জীবিকার তাগিদে খেটে খাওয়া মানুষ এমন অবস্থার মধ্যেও কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম : শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন কুড়িগ্রামের মানুষ। কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস বইছে। তিন দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। গতকাল সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। তবে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডার পরিমাণ ছিল অতিমাত্রায়। কনকনে ঠান্ডায় কষ্টে পড়েছেন হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের মানুষ। অনেকেই পেটের দায়ে বাধ্য হচ্ছেন কাজে যেতে।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সঙ্গে যোগ হয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। ফলে হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে এ জেলায়। গতকাল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেটি সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এদিকে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সকালে কোথাও কোথাও আগুন জ¦ালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে শ্রমজীবীদের। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতের এই তীব্রতা আরও দু-এক দিন থাকতে পারে।
বরিশাল : মেঘলা আকাশ ও ঘন কুয়াশার দাপটে বরিশালে গতকাল সূর্যের দেখা মেলেনি। যার কারণে প্রচ- শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও দুই থেকে তিন দিন এরকম মেঘলা আকাশ ও কুয়াশার দাপট থাকবে।
