ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অবৈধ দোকান বসিয়ে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. লিটন কুমার সাহাকে সদস্য-সচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর সদস্য হলেন রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষক ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. দিলারা জাহিদ। একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে প্রক্টরিয়াল টিমের বিরুদ্ধে যে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে পেশ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২৬ জানুয়ারি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে বলা হয়, প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে তিন শতাধিক অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে বছরে অর্ধকোটি টাকার বেশি চাঁদা তুলছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রক্টর কার্যালয়ের টোকেনম্যান শামীম হোসাইন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে চাঁদার টাকা তার কাছে পৌছায়। এ টাকার অংশ নেন একই দফতরের সেকশন অফিসার মো. রেজাউল করিম, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য মো. জুয়েল, মাসদু রানা, হামিদুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ, মো. মিরাজ, মো. মেহেদী, আমিনুল ইসলাম, কৃষাণ, মো. সালাউদ্দিন ও মো. জাহিদ।
ইতিমধ্যে ফেসবুকে চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দেওয়া শামীমের ‘অবৈধ’ অর্থ লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড দেখা গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামীম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights