এআই ছেড়ে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ করছেন বিল গেটস

অনলাইন ডেস্ক
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন। যখন সারা বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে মনোনিবেশ করছে, তখন বিল গেটস ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। তিনি পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি করেছেন গেটস। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই পদক্ষেপ পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ই-কমার্সের চাহিদা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন পরিবহন ও লজিস্টিক খাতকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে বিল গেটস সম্প্রতি বাণিজ্যিক যানবাহনের নকশা ও উদ্ভাবনে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘প্যাকার’ এবং বৈশ্বিক লজিস্টিক সেবাদাতা সংস্থা ‘ফেডেক্স’-এ বিনিয়োগ করেছেন।

গেটস দুই প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা (১ ডলারের বিনিময় হার ১২০ টাকা ধরে)।

‘প্যাকার’ মূলত হালকা, মাঝারি ও ভারী ট্রাকের নকশা ও নির্মাণে বিশেষজ্ঞ। প্রতিষ্ঠানটি কেনওয়ার্থ ও পিটারবিল্ট নামে দুটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ট্রাক তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে প্যাকার বৈদ্যুতিক ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগ দিচ্ছে।

অন্যদিকে ‘ফেডেক্স’ বিশ্বব্যাপী লজিস্টিক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ই-কমার্স খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ফেডেক্সের সেবা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। এই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই বিল গেটস তার বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করেছেন।

প্রতিষ্ঠান দুটির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। প্যাকার ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাণিজ্যিক যানবাহন তৈরিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ফেডেক্স বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিল গেটসের এই উদ্যোগ যে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights