কিউবার নাম ‘কালো তালিকা’ থেকে বাদ দিচ্ছেন বাইডেন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকা থেকে দ্বীপ রাষ্ট্র কিউবার নাম বাদ দিচ্ছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় হোয়াইট হাউস। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ফ্লোরিডার বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান এমপি।

তবে হোয়াইট হাউস বলছে, বন্দিমুক্তি চুক্তির অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

ফ্লোরিডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্লোরিডা ফিনিক্স জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে কিউবার নাম প্রত্যাহারের ঘোষণাপত্রে বাইডেন লিখেছেন, “কিউবা সরকার গত ৬ মাসে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের জন্য কোনও সহায়তা প্রদান করেনি। কিউবা সরকার আশ্বাস দিয়েছে- তারা অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করবে না।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পর কিউবা ঘোষণা দেয়- তারা বিভিন্ন অপরাধের জন্য আটক ৫৫৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে চার বছর আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে সম্পর্ক শীতল হতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে। এরপর প্রায় পাঁচ দশক ধরে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পুরো সময়টায় ওয়াশিংটনে কিউবার ও হাভানায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও দূতাবাস ছিল না। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়।

সন্ত্রাসবাদে উসকানিদাতার তালিকা থেকে কিউবাকে সর্বপ্রথম বাদ দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ২০২১ সালে আবারও দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে কালো তালিকায় যুক্ত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে বৈদেশিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন জো বাইডেন। তারই অংশ হিসেবে ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার মাত্র পাঁচদিন আগে কিউবা নিয়ে এল এমন সিদ্ধান্ত।

তবে ফ্লোরিডা ফিনিক্সের খবর বলছে, বাইডেনের এই পদক্ষেপ স্বল্পস্থায়ী হতে পারে, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে পারেন। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights