“শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত”

হাসিনা মরিয়ম

আধুনিক বিশ্বের অসংগঠিত সমাজ ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন নেতিবাচক ফল হলো কিশোর অপরাধ।

আমাদের চারপাশের বিরাজমান নৈরাজ্য, পরিবার কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তন, অপসংস্কৃতির বাঁধ ভাঙা জোয়ার এজন্য অনেকাংশে দায়ী।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই”

মূলত এ বয়সের ছেলে মেয়েদের সামনে থাকে জীবন জগৎ সম্পর্কে অতি কৌতূহল, তারা সব বিষয়ে জানতে চায়- দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে তাদের কৌতূহলের শেষ নেই, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতিতে ভরে গেছে আমাদের চারপাশ, এতে বাড়ছে সমাজে বিশৃংখলা, কলহ, অশ্লীলতা সহ নানা রকম অপরাধ, এতে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোররাই বেশী প্রভাবিত হচ্ছে, সমাজ তার সামাজিক মূল্যবোধ আর শৃংখলা হারিয়ে ফেলছে, তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার, অর্থনৈতিক দৈন্য দশা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যৌথ পরিবার প্রথার বিলুপ্তি, মাদকের বিষাক্ত ছোবলের কারনে আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের উশৃঙ্খল হওয়ার পিছনে অনেকাংশে দায়ী।

 শিশু কিশোররাই আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যত, তাদের  বিকাশ ও অগ্রগতির উপর নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যত বাংলাদেশ ও একটি জাতির উন্নতি, কিন্তু ভবিষ্যত এই প্রজন্মকে রাষ্ট্র, সমাজ তথা পরিবারগুলো কি অবদান রাখছে? সুকুমার বৃত্তি চর্চা তো দূরের কথা, প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা -কি পাচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা? কি শিখছে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদের ছেলেমেয়েরা? উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে একটা মেধাশূন্য জাতি আমরা রেখে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় ভবিষ্যত বাংলাদেশে, আর এখনই যদি আমরা তা রোধ না করি তবে অনেক দেরী হয়ে যাবে। পরিবারই শিশুদের প্রথম শিক্ষালয়, তাই পরিবার থেকেই আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে হবে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে শিখাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে -শিক্ষামূলক পাঠদান  করাতে হবে, অপসংস্কৃতি সমূলে দূর করতে হবে আমাদের সমাজ থেকে, পাঠ্য বইগুলোতে জীবন ও আদর্শের অনুকরণে আমাদের সন্তানদের দিতে হবে সুশিক্ষার পাঠ.

 কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, “দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋন”

 তাই ওদেরকে একটা সুশীল সমাজ দেওয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বস্তুত পরিবারকে বলা হয় শিক্ষার প্রথম বুনিয়াদ, সন্তানদের মানসিক বিকাশ ও সুসংহত জাতি হিসাবে তৈরী করা পরিবারের দারিত্ব অপরিসীম। সন্তান যেন কোন অপরাধে জড়িয়ে না পরে, চারপাশ থেকে ওরা কি শিখছে, এসব কিছুতে বাবা-মাকে নজর দিতে হবে যেন সন্তান ভুল না করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রকে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন রকম অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, কুশিক্ষা আমাদের সমাজকে কলুষিত না করতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষাদান করে সেই দিকে নজরদারী বাড়াতে হবে।

অপসংস্কৃতি, কুশিক্ষা যা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তার মূল উৎপাটন করে সমূলে বিনষ্ট করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু রাষ্ট্র না সুশীল সমাজ এবং সচেতন সব নাগরিককে অংশগ্রহন করতে হবে। এই দেশকে অপশক্তির এই কালো ছায়া থেকে রক্ষা করতে হবে। এই দেশ আমাদের, এই দেশের মাটি, মানুষ সব আমাদের, তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত আমাদেরই রেখে যেতে হবে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights